ফয়সাল চৌধুরী : আজ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম জন্মজয়ন্তী। বিশ্বসেরা এই বাঙালির জন্মদিনটি ঘিরে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন আয়োজন করেছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালার।
শুক্রবার (৮ মে), ২৫ বৈশাখ বাংলা সাহিত্যের নক্ষত্রপুরুষ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে কবির স্মৃতিবিজড়িত কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে তিনদিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে, আমি বাইবো না আমি বাইবো না মোর খেয়া তরী এই ঘাটে সহ ২ হাজার ২৩২টি গানের অধিকাংশই কুষ্টিয়ার এই শিলাইদহে বসে লিখেছেন কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এখান থেকেই গীতাঞ্জলি অনুবাদ করে ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম বাঙালি হিসেবে সাহিত্যে অর্জন করেছেন নোবেল পুরস্কার।
রবীন্দ্রঠাকুর তার অসংখ্য গান, কবিতা ও সাহিত্যকর্মের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্বের কাছে। কুষ্টিয়ার শিলাইদহে কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাড়িতে তার সাহিত্যের বড় একটি অংশ জুড়ে আছে এখানকার প্রকৃতি, সাধারণ মানুষের জীবন যাপন ও প্রতিচ্ছবি মাধ্যমে। তাই তো কবি ভক্ত ও দর্শনার্থীরা শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে ঘুরতে এসে খুঁজে পান কবিগুরুকে। অনুভব হয় তাঁর স্পর্শে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতির সঙ্গে মিশে আছে শিলাইদহ কুঠিবাড়ি। কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় পদ্মা নদী ঘেঁষে এই ঐতিহাসিক স্থানটি স্বগর্বে দাঁড়িয়ে আছে। জেলা শহর থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে এটি অবস্থিত। স্থানটি প্রায় ১১ একর জায়গার ওপর দাঁড়িয়ে। গ্রামীণ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এই পর্যটনস্থল দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজারো দর্শনার্থীর আগমনে দিনভর মুখর থাকে। পদ্মাতীরের ছায়াশীতল, নিরিবিলি পরিবেশের কারণেই বিশ্বকবি বারবার এখানে ফিরে এসেছেন। এখানে বসেই কবি রচনা করেছেন কালজয়ী সব কাব্যগ্রন্থ, ছোট গল্প, নাটক ও উপন্যাস। যে গীতাঞ্জলি কাব্য রচনা করে কবি নোবেল জয় করেছিলেন, সেই কাব্যের অনেকটাই তিনি রচনা করেছিলেন শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে বসে। বহু প্রতিভার অধিকারী এই কবি তার আপন আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতিকে তুলে ধরেছিলেন বিশ্ব দরবারে।পেয়েছিলেন বিশ্বকবির সম্মান।
প্রতিবারই কবির স্মৃতিধন্য কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে বিশেষ আয়োজন থাকে। এবারও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। জন্মজয়ন্তী উদ্যাপনের প্রস্তুতির সব কর্মকাণ্ড তদারকি করেছেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন।
শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ শিরোনামে শুক্রবার দুপুর আড়াইটায় প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। তবে এবার বসছে না ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলা।
শিলাইদহের রবীন্দ্র কুঠিবাড়ির কাস্টোডিয়ান মো. আল আমিন বলেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপনের সব প্রস্তুতি পরিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। তিন দিনব্যাপী রবীন্দ্র সংগীত, কবিতা আবৃত্তি, আলোচনা সভা ও মঞ্চ নাটক চলবে আগামী ১০ মে মধ্যরাত পর্যন্ত।
কুষ্টিয়া সান আফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের প্রথম শ্রেণীর ছাত্র শাফায়েত চৌধুরী বলেন, কবিগুরুর জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানে সাজসজ্জা দেখে আমি খুবই মুগ্ধ হয়েছি। কুঠিবাড়িতে এসে অদ্ভুত অনুভূতি হল । মনে হয় এখানকার আকাশে বাতাসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরম শ্রদ্ধার সাথে যে স্মৃতি গুলো ভেসে বেড়াচ্ছে এটা আমাদের বাংলা সংস্কৃতিকে আরও উজ্জীবিত করবে । অনেক মানুষ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান খুব ভালো লাগলো। এখানকার কুলফি মালাই আমার খুবই ভালো লেগেছে।
বাংলা ১২৬৮ সনের ২৫ বৈশাখ কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্মগ্রহণ করেন। তার দাদা প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর ১৮০৭ সালে এই অঞ্চলে জমিদারি পান। ১৮৯১ সালে বাবার আদেশে জমিদারি দেখাশোনার কাজে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহে আসেন। কবিগুরু ১৯০১ সাল পর্যন্ত শিলাইদহে জমিদারি পরিচালনা করেন। পদ্মা পাড়ের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে মুগ্ধ কবি একে একে রচনা করেন সোনার তরী, চিত্রা, চৈতালীসহ বিখ্যাত সব কাব্য গ্রন্থ।