শিরোনাম
◈ যৌন হয়রানির অপরা‌ধে ৫ বছর নিষিদ্ধ গায়ানা ফুটবল কর্মকর্তা ইয়ান আলভেস ◈ সীমান্তে ভারতীয় ড্রোন পড়ে আতঙ্ক, বিজিবির হেফাজতে উদ্ধার করা হয়েছে ◈ টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংয়ে আটে বাংলাদেশ ◈ চীনের নেতৃত্বাধীন বাণিজ্যিক জোট আরসেপে যোগ দিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ ◈ সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ৩৮ অডিট রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর ◈ দেশের ইতিহাসে এত চমৎকার নির্বাচন আগে কখনো হয়নি: সেনাপ্রধান ◈ এক বছরের মধ্যেই সব ধাপের স্থানীয় সরকার নির্বাচন: মির্জা ফখরুল ◈ শাপলা চত্বর মামলা: ৫৮ জন নিহত, প্রধান আসামি শেখ হাসিনা ◈ হরমুজে আটকে থাকা জাহাজের সংখ্যা প্রায় ২০০০! ◈ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া: বাণিজ্যমন্ত্রী (ভিডিও)

প্রকাশিত : ০৩ মে, ২০২৬, ০৬:৫৯ বিকাল
আপডেট : ০৫ মে, ২০২৬, ০৭:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ধান পেকেছে মাঠে, শ্রমিক নেই : বিপাকে জীবননগরের কৃষক

জামাল হোসেন খোকন, জীবননগর চুয়াডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় পুরোদমে শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটার মৌসুম। বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটলেও শ্রমিক সংকট তাদের ফেলেছে চরম দুশ্চিন্তায়। একযোগে ধান পেকে যাওয়ায় মাঠে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় শ্রমিকের অভাবে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা।

উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, মাঠজুড়ে এখন ধান কাটার ব্যস্ততা। কেউ ধান কাটছেন, কেউ আঁটি বাঁধছেন, আবার কেউ মাথায় করে ধানের বোঝা বাড়িতে নিচ্ছেন। সোনালি ধানে ভরে উঠেছে মাঠঘাট। তবে শ্রমিকের স্বল্পতায় অনেক কৃষক সময়মতো ধান কাটতে পারছেন না।

চাহিদা বাড়ায় শ্রমিকদের মজুরিও বেড়েছে। আগে যেখানে প্রতিদিন ৪০০ টাকা মজুরি ছিল, এখন তা বেড়ে ৫০০ টাকা বা তারও বেশি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকরা চুক্তিভিত্তিক কাজ করে প্রতিদিন ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন।

বাকা আলিপুর গ্রামের কৃষক  আলমগীর হোসেন বলেন, “আড়াই বিঘা জমিতে ভালো ফলন হয়েছে, কিন্তু শ্রমিক না পাওয়ায় সময়মতো ধান কাটতে পারিনি। বাধ্য হয়ে ছেলেকে নিয়ে নিজেই মাঠে নেমেছি।”

প্রতাপপুর গ্রামের  মজিবুর রহমান জানান, “শ্রমিক পাওয়া খুবই কঠিন হয়ে গেছে। তিন দিন পর শ্রমিক পাওয়ার কথা, কিন্তু এর মধ্যে যদি বৃষ্টি হয় তাহলে বড় ক্ষতির আশঙ্কা আছে।”

একই ধরনের দুশ্চিন্তার কথা জানান সিংনগর গ্রামের কৃষক মোমিন হোসেন। তিনি বলেন, “দুই বিঘা জমিতে ভালো ফলন হয়েছে। তবে একসাথে সব ধান পেকে যাওয়ায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে ১০ দিনের মধ্যে ধান ঘরে তুলতে পারব।”

উপজেলার উথলী, রায়পুর, আন্দুলবাড়ীয়া, হাসাদাহ, মনোহরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় একই চিত্র দেখা গেছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জীবননগরে ৭ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।

জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “ঝড় ও শিলাবৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ৮০ শতাংশ ধান পাকলেই কেটে ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শ্রমিক সংকটের বিষয়টি আমরা অবগত এবং কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”

এদিকে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলেও শ্রমিক সংকটের কারণে ধান ঘরে তুলতে বিলম্ব হওয়ায় কৃষকদের মাঝে বাড়ছে উদ্বেগ। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ফসল ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়