ইফতেখার আলম বিশাল, রাজশাহী প্রতিনিধি : মানবতার বিবেককে নাড়া দেওয়া এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে রাজশাহী মহানগরীতে। নিষ্পাপ এক নবজাতক—যার চোখে পৃথিবী দেখার সুযোগও হয়নি—তাকে নির্মমভাবে ফেলে গেছে অমানবিক মানুষগুলো।
রবিবার (৩ মে) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর শাহ মখদুম থানার খিরশিন টিকর এলাকায় রাস্তার পাশে নবজাতকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। প্রথমে কেউ বুঝতে পারেনি—এটা যেন কোনো সাধারণ কিছু নয়, বরং এক নির্মম নিষ্ঠুরতার চিত্র। পরে কুকুরের টেনে আনা অবস্থায় শিশুটির নিথর দেহটি নজরে এলে পুরো এলাকায় নেমে আসে শোক ও আতঙ্কের ছায়া।
স্থানীয়রা জানান, একটি দোকানের সামনে পাকা রাস্তার ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সেই ছোট্ট দেহটি দেখে তাদের বুক কেঁপে ওঠে। শিশুটিকে সবুজ কাপড়ে মোড়ানো ছিল—যেন শেষবারের মতো কেউ তাকে ঢাকতে চেয়েছিল, কিন্তু রক্ষা করতে পারেনি নিষ্ঠুর পরিণতি থেকে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে মাটি, ধূলাবালি ও খড় লেগে ছিল, আর আংশিক পচনের চিহ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে—গোপনে গর্ভপাতের পর নবজাতকটিকে ফেলে রেখে যায় কেউ। পরে কুকুর সেটিকে টেনে এনে রাস্তায় ফেলে দেয়।
সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শাহ মখদুম থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। শিশুটির দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে শাহ মখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয়রা। তাদের একটাই দাবি—যে বা যারা এই নিষ্ঠুর কাজের সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
একটি নিষ্পাপ প্রাণ—যে পৃথিবীর আলো দেখার আগেই নিভে গেল—তার এই করুণ পরিণতি যেন আমাদের সমাজের নিষ্ঠুর বাস্তবতাকেই আবারও সামনে এনে দিল।