শিরোনাম
◈ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের ৮৬ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ ◈ ফেরদৌসী মিষ্টির আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিলেন যে ৬৭ নারী নেত্রী ◈ দীপকের আটক ঘিরে নেতৃত্বের সংকট, বিকল্প পরিকল্পনা ‘প্ল্যান বি’ প্রস্তুত সিজেপির ◈ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজা এলেই নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা ওঠা জাতীয় জীবনের জন্য দুঃখজনক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ কাভার্ডভ্যান চুরি হওয়া ক্রিকেটারের টাকা যেভাবে উদ্ধার হলো ◈ মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানত না ঢাকা, তথ্য চেয়ে সৌদি আরবকে চিঠি ◈ হাসিনা-কামালসহ হাদী হত্যা মামলার আসামিদের ফেরত চাইবে বাংলাদেশ, ভারতকে কনস্যুলার সংলাপে চাপ ◈ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, ৮-১০ লাখ টাকায় প্রশ্ন-উত্তর বিক্রি: গ্রেপ্তার ৭ ◈ জামায়াত কার্যালয়ে হামলা: কুমিল্লা মহানগর কমিটি বিলুপ্ত, তদন্ত কমিটি গঠন ◈ ভারতে ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ, ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইন শাহিদাদের

প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:০৮ রাত
আপডেট : ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মৃত্যুফাঁদে ক্লাসরুম: কুমিল্লায় পাঠ চলাকালে ফ্যানসহ ছাদের পলেস্তারা ধসে পড়ল

শাহাজাদা এমরান, স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা : পাঠ চলছিল স্বাভাবিকভাবেই। হঠাৎ বিকট শব্দ—এরপরই বৈদ্যুতিক ফ্যানসহ ছাদের পলেস্তারা ধসে পড়ল শ্রেণিকক্ষের ভেতরে। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যায় শিক্ষার্থীরা। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—এই দায় কার?

বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ৭১নং গজারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা। মুহূর্তেই শ্রেণিকক্ষে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। শিক্ষকরা দ্রুত শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৩৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ের ভবনটি নির্মিত হয় ১৯৬৮ সালে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ভবনটি এখন সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে নতুন ভবনের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অভিভাবক জুয়েল রানা বলেন, “হঠাৎ করেই ফ্যানসহ ছাদের পলেস্তারা ভেঙে পড়ে। ভাগ্য ভালো, ওই বেঞ্চে তখন কোনো শিক্ষার্থী ছিল না। আমরা দৌড়ে এসে সন্তানদের নিয়ে যাই। এভাবে আর কতদিন ঝুঁকি নিয়ে পড়াশোনা চলবে?” বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহনাজ আক্তার জানান, “প্রথম ক্লাস শেষ হওয়ার পরই ঘটনাটি ঘটে। অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে। গত সপ্তাহেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ভেঙে ফেলার জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসারে লিখিত আবেদন করেছি। এর আগেও স্থানীয়ভাবে একাধিকবার নতুন ভবনের দাবি জানানো হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “এভাবে প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে ক্লাস নেওয়া সম্ভব নয়।”

এ বিষয়ে দেবিদ্বার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মিনহাজ উদ্দিন বলেন, “ভবনটিকে আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ক্লাস চালু রাখতে হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রস্তাব তালিকায় এক নম্বরে রাখা হয়েছে।”

স্থানীয়দের প্রশ্ন—দুর্ঘটনা ঘটার পরই কেন নড়ে বসে কর্তৃপক্ষ? কোনো প্রাণহানি ঘটলে দায় নিত কে? ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল, অবহেলা আর বিলম্ব মিলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অনেক জায়গায় পরিণত হয়েছে সম্ভাব্য মৃত্যুফাঁদে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

  • সর্বশেষ