নারায়ণগঞ্জে একটি নির্মাণাধীন ভবনের পানির ট্যাংকে নেমে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সদর উপজেলার কাশীপুর ইউনিয়নের ভোলাইল গেউদ্দার বাজার এলাকার শাহাবুদ্দিন ব্যাপারীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, পটুয়াখালীর বাউফল থানার ভাংরা গ্রামের আলতাফ মৃধার ছেলে দেলোয়ার মৃধা (৩৫) এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার আব্দুর রহিমের ছেলে রানা (২২)।
দেলোয়ার মৃধা পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন। তাঁর সুরিয়ান নামে দেড় বছরের এক ছেলে সন্তান রয়েছে। অন্যদিকে রানা ছিলেন একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক। বন্ধের দিন থাকায় দেলোয়ারের সঙ্গে কাজ করতে এসে প্রাণ হারালেন তিনি। মাত্র চার মাস আগে বিয়ে করেছিলেন রানা। তারা গেউদ্দার বাজার এলাকায় ভাড়া থাকতেন।
ভবনের মালিক শাহাবুদ্দিন ব্যাপারী জানান, নির্মাণ কাজের জন্য তিনি মোহাম্মদ ফারুক নামে এক ঠিকাদারকে দায়িত্ব দেন। তাঁর অধীনে শ্রমিকরা কাজ করছিলেন। শুক্রবার দুপুরে পানির ট্যাংক পরিষ্কার করতে প্রথমে দেলোয়ার নামে এক শ্রমিক ট্যাংকের ভেতরে নামেন। কিছুক্ষণ পর তাঁর কোনো সাড়া না পেয়ে রানা নামে আরেক শ্রমিক নিচে নামেন। এরপর সেখান থেকে চিৎকারের শব্দ শোনা যায়।
এ সময় বাড়ির মালিকের দুই ছেলে নিচে নামতে চাইলে স্থানীয়রা তাদের বাধা দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয় তারা। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে দুই শ্রমিককে উদ্ধার করে। তাদের খানপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরিফিন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে তাদের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম বলেন, ‘তাদের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।’