শিরোনাম
◈ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের ৮৬ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ ◈ ফেরদৌসী মিষ্টির আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিলেন যে ৬৭ নারী নেত্রী ◈ দীপকের আটক ঘিরে নেতৃত্বের সংকট, বিকল্প পরিকল্পনা ‘প্ল্যান বি’ প্রস্তুত সিজেপির ◈ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজা এলেই নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা ওঠা জাতীয় জীবনের জন্য দুঃখজনক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ কাভার্ডভ্যান চুরি হওয়া ক্রিকেটারের টাকা যেভাবে উদ্ধার হলো ◈ মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানত না ঢাকা, তথ্য চেয়ে সৌদি আরবকে চিঠি ◈ হাসিনা-কামালসহ হাদী হত্যা মামলার আসামিদের ফেরত চাইবে বাংলাদেশ, ভারতকে কনস্যুলার সংলাপে চাপ ◈ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, ৮-১০ লাখ টাকায় প্রশ্ন-উত্তর বিক্রি: গ্রেপ্তার ৭ ◈ জামায়াত কার্যালয়ে হামলা: কুমিল্লা মহানগর কমিটি বিলুপ্ত, তদন্ত কমিটি গঠন ◈ ভারতে ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ, ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইন শাহিদাদের

প্রকাশিত : ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:০৭ রাত
আপডেট : ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

‎লালমনিরহাটে 'ভোল বদল' রাজনীতির কারিগর সোহরাবের পদত্যাগ, আলোচনার কেন্দ্রে 'সুবিধাবাদ'

‎জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, ‎​লালমনিরহাট প্রতিনিধ : আদর্শ নয়, বরং ক্ষমতার পাল্লা ভারী দেখলেই ভোল পাল্টানোয় সিদ্ধহস্ত লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাপ্টিবাড়ি ইউপি'র সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সোহরাব এবার নিজের পিঠ বাঁচাতে নৌকার হাল ছেড়েছেন। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ আত্মগোপন শেষে প্রকাশ্যে এসেই দলত্যাগের ঘোষণা দিলেন এই 'ভোল বদল' খ্যাত আলোচিত নেতা।

​বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে নিজ বাড়িতে এক প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে তিনি আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তবে পদত্যাগের কারণ হিসেবে ‘শারীরিক অসুস্থতা’র অজুহাত দিলেও তা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে।

সুবিধাবাদের দীর্ঘ ইতিহাস অনুসন্ধানে জানা যায়, আব্দুস সোহরাব একসময় আদিতমারী উপজেলা বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। ২০০৯ সালের উপজেলা বিএনপির সম্মেলনে তিনি ১নং সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। দলীয় রেকর্ডে তার সদস্য পরিচিতি নম্বর ৩৫৩৮৮০৩। ২০১৪ সালের উত্তাল রাজনৈতিক সময়েও তিনি বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন।

তবে ২০১৫ সালে ক্ষমতার রাজনীতিতে ভোল পাল্টে তিনি তৎকালীন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামানের হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। সেই সময় বিএনপিতে ‘মীরজাফর’ উপাধি পেলেও আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েই বাগিয়ে নেন জেলা পরিষদের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ। পরবর্তীতে দলীয় প্রভাবে গত ইউপি নির্বাচনে নৌকার টিকিট নিয়ে সাপ্টিবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হন তিনি।

Advertisement

নাটকীয় প্রত্যাবর্তন ও পদত্যাগ ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহূর্তেই এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান এই ‘নব্য’ আওয়ামী লীগার। দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে সম্প্রতি তিনি এলাকায় ফেরেন। এলাকায় ফেরার পর আইনি জটিলতা এড়াতে এবং নিজেকে নিরপরাধ প্রমাণ করতে তড়িঘড়ি করে এই পদত্যাগের নাটক সাজিয়েছেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

​জনমনে প্রতিক্রিয়া আদিতমারীর সাধারণ মানুষের মতে, আদর্শের চেয়ে ব্যক্তিগত সুবিধাকে বড় করে দেখা সোহরাব এখন জনরোষ থেকে বাঁচতে এই কৌশল বেচেঁ নিয়েছেন। বিএনপির প্রভাবশালী নেতা থেকে আওয়ামী লীগের দাপুটে ক্যাডার এবং বর্তমানে পরিচয়হীন হওয়ার এই চেষ্টাকে রাজনৈতিক সুবিধাবাদের চরম দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

​এ বিষয়ে আদিতমারী উপজেলার একাধিক রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, ক্ষমতার মোহে যারা বার বার দল পরিবর্তন করেন, তাদের স্থান কোথাও স্থায়ী হয় না। সোহরাবের এই পদত্যাগ মূলত অস্তিত্ব রক্ষার একটি ব্যর্থ চেষ্টা মাত্র।

  • সর্বশেষ