শাহাজাদা এমরান, স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা : কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের কৃষকদের আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিশ্চিত করা, তাদের আর্থসামাজিক মর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে গত ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড বিতরণের প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধনের ধারাবাহিকতায় আজ শুক্রবার কুমিল্লায় ১,৪৫৮ জন কৃষকের মাঝে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কৃষিমন্ত্রী হাজী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন এবং তিনি কৃষকদের উদ্দেশে বক্তব্য প্রদান করবেন। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. রেজা হাসানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, কৃষি সচিব ড. রফিকুল ই মোহাম্মদ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন। কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা জানান, জগন্নাথপুর ইউনিয়নের বিবির বাজার হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠান শুরু হবে। অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ জন কৃষক ও কৃষাণীর হাতে কৃষক কার্ড তুলে দেবেন প্রধান অতিথি। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা কৃষি মেলা পরিদর্শন করবেন। পরে বৈশাখী আবহে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
এদিকে, কৃষক কার্ড বিতরণ উপলক্ষে বিবির বাজার এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের প্রিয় নেতা ও কৃষিমন্ত্রী হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন মন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবারের মতো এলাকায় আসছেন—এ উপলক্ষে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা জানিয়েছেন, কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
আজকের কৃষক কার্ড বিতরণ উপলক্ষে জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী ও কুমিল্লার কৃতি সন্তান হাজী আমিন উর রশীদ ইয়াছিন বলেন, “কৃষক কার্ড চালুর মাধ্যমে দেশের কৃষকদের একটি সমন্বিত ডাটাবেইজের আওতায় আনা সম্ভব হবে। এর ফলে প্রকৃত কৃষকদের চিহ্নিত করে তাদের কাছে সরকারি সহায়তা দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দেওয়া যাবে।”
মন্ত্রী জানান, পহেলা বৈশাখ মাননীয়প্রধান মন্ত্রী টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড উদ্বোধনের পর দ্বিতীয় পর্যায়ে আজ “কুমিল্লা থেকে এই কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়ন সারা দেশের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। আমরা চাই দেশের প্রতিটি কৃষক এই সুবিধার আওতায় আসুক এবং আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত হোক।”