শিরোনাম
◈ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের ৮৬ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ ◈ ফেরদৌসী মিষ্টির আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিলেন যে ৬৭ নারী নেত্রী ◈ দীপকের আটক ঘিরে নেতৃত্বের সংকট, বিকল্প পরিকল্পনা ‘প্ল্যান বি’ প্রস্তুত সিজেপির ◈ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজা এলেই নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা ওঠা জাতীয় জীবনের জন্য দুঃখজনক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ কাভার্ডভ্যান চুরি হওয়া ক্রিকেটারের টাকা যেভাবে উদ্ধার হলো ◈ মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানত না ঢাকা, তথ্য চেয়ে সৌদি আরবকে চিঠি ◈ হাসিনা-কামালসহ হাদী হত্যা মামলার আসামিদের ফেরত চাইবে বাংলাদেশ, ভারতকে কনস্যুলার সংলাপে চাপ ◈ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, ৮-১০ লাখ টাকায় প্রশ্ন-উত্তর বিক্রি: গ্রেপ্তার ৭ ◈ জামায়াত কার্যালয়ে হামলা: কুমিল্লা মহানগর কমিটি বিলুপ্ত, তদন্ত কমিটি গঠন ◈ ভারতে ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ, ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইন শাহিদাদের

প্রকাশিত : ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:১৮ রাত
আপডেট : ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ফরিদপুরে ঢেউখালিতে দুইশো বছরের ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মৎস্য মেলা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালি বাজারে বসেছে প্রায় দুইশত বছরের ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মৎস্য মেলা। বাংলা নববর্ষের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করতে বুধবার (১৫ এপ্রিল) বৈশাখের দ্বিতীয় দিনে একদিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করা হয়। ভোর ৬টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলা এ মেলায় বরাবরের মতোই ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও জমজমাট বেচাকেনা।

সদরপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ সারা বছর অপেক্ষা করেন এই বিশেষ দিনের জন্য। বৈশাখের শুরুতেই আয়োজিত এই মৎস্য মেলা গ্রামীণ জীবনে যেন উৎসবের রূপ নেয়। সকাল হতেই ঢেউখালি বাজারে নেমে আসে মানুষের ঢল—ক্রেতা, বিক্রেতা ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দুইশত বছর আগে শুরু হওয়া এই মেলা এখনো তার ঐতিহ্য ও জৌলুস অটুট রেখেছে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসা এই আয়োজন কেবল কেনাবেচার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা মাছ ব্যবসায়ীরা বড় বড় মাছ নিয়ে পসরা সাজান। বিশাল আকৃতির মাছগুলোই প্রথমে নজর কাড়ে দর্শনার্থীদের। আকার ও প্রজাতি ভেদে দাম তুলনামূলক বেশি হলেও ক্রেতাদের আগ্রহে ভাটা পড়েনি। দরদাম আর বিক্রেতাদের হাঁকডাকে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ।

Advertisement

এ মেলায় পুকুর ও বিলের মাছের পাশাপাশি পদ্মা, আড়িয়াল খাঁ ও ভূবনেশ্বর নদীর বড় আকারের মাছ বিশেষ আকর্ষণ হয়ে ওঠে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আনা ইলিশ, চিংড়ি, রুই, কাতল, বোয়াল, গজার ও আইড়সহ নানা প্রজাতির মাছ দেখতে ভিড় করেন দর্শনার্থীরা। অনেক মাছের আকার এতটাই বড় যে তা দেখতে আলাদা আকর্ষণ তৈরি হয়।

মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে তারা প্রতিবছরই মেলায় অংশ নেন এবং ক্রেতাদের হাতে ভালো মানের মাছ তুলে দিতে সচেষ্ট থাকেন।

অন্যদিকে, বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ক্রেতারাও মাছের বৈচিত্র্য ও মেলার পরিবেশে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। প্রতিবছর এই মেলায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকার মাছ বিক্রি হয় বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, এই মেলা শুধু বিনোদনের উৎস নয়—গ্রামীণ অর্থনীতির জন্যও তা গুরুত্বপূর্ণ। একদিনের এই আয়োজনকে ঘিরে বাড়ে ব্যবসা-বাণিজ্য, সৃষ্টি হয় অস্থায়ী কর্মসংস্থান এবং প্রাণ ফিরে পায় পুরো এলাকা।

  • সর্বশেষ