সরওয়ার আজম মানিক, কক্সবাজার : কক্সবাজারে টেকনাফ সদরের নোয়াখালিয়া পাড়ায় অজ্ঞাত এক যুবকের তিন টুকরা অবস্থায় বস্তাবন্দি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এদিকে ঘটনায় ধারণার তথ্য দিয়ে স্থানীয়রা বলছেন, মুক্তিপণের দাবিতে তিনদিন আগে নোয়াখালিয়া পাড়া সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেয়ার সময় কলিম উল্লাহ নামের স্থানীয় যুবককে গাড়ী যোগে তুলে নিয়ে যায়। উদ্ধার করা লাশটি নিখোঁজ ওই যুবকের বলে ধারণা স্থানীয়দের।
বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টার দিকে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভের টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়া পাড়ার বিল থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয় বলে জানান, টেকনাফ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম।
দূর্বৃত্তরা নিহত যুবকের মুখমন্ডল ধারালো অস্ত্র দিয়ে বিকৃত করে দেয়ায় নাম ও পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হলেও বয়স আনুমানিক ২০ বছর হতে পারে বলে জানান তিনি।
স্থানীয়দের বরাতে সাইফুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়া পাড়ার ফসলি ক্ষেতের বিলে তিন টুকরো অবস্থায় বস্তাবন্দি মানুষের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে স্থানীয়রা ঘটনাটি অবহিত করলে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এসময় বিলে বিক্ষিপ্তভাবে ফেলে রাখা অজ্ঞাত যুবকের তিনটি বস্তাবন্দি খন্ডিতাংশ উদ্ধার করা হয়।
“ দূর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে অজ্ঞাত ওই যুবককে হত্যার পর ঘাড়সহ মাথা, গলা থেকে কোমরের উপর অংশ এবং কোমর থেকে পা পর্যন্ত তিনটি খন্ডিত অংশ বস্তাবন্দি করে ফেলে রেখে যায়। ধারালো অস্ত্রে মুখমন্ডল বিকৃত করে দিয়েছে। “
নিহত যুবকের পরিচয় শনাক্ত এবং ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে পুলিশ কাজ করছে বলে জানান ওসি।
এদিকে গত মঙ্গলবার ( ৭ এপ্রিল ) সন্ধ্যায় টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়া পাড়া সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়ার সময় কলিম উল্লাহ নামের স্থানীয় এক যুবককে প্রাইভেট নোহা যোগে কতিপয় দূর্বৃত্ত কর্তৃক তুলে নেয়ার ঘটনা ঘটেছে।
কলিম উল্লাহ (২০) একই এলাকার বাসিন্দা মমতাজ উদ্দিনের ছেলে।
অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে মমতাজ উদ্দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তার ছেলে কলিম উল্লাহকে তুলে নেয়ার পর অপরিচিত মোবাইল ফোন নম্বর থেকে কল দিয়ে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল। ঘটনাটি মৌখিকভাবে পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে কলিম উল্লাহ এখনো নিখোঁজ রয়েছে।
“মৃত উদ্ধার যুবককে হত্যার পর তিন টুকরো করা হয়েছে। মুখমন্ডল সহ শরীরের বিভিন্ন অংশ বিকৃত করে দেয়া হয়েছে। “
নিহতের মুখমন্ডল সহ শরীরের বিভিন্ন অংশ বিকৃত করে দেয়ায় পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হলেও নিখোঁজ ছেলের মৃতদেহ হতে পারে বলে ধারণার কথা বলেন, অপহৃত কলিম উল্লাহ’র বাবা।
উদ্ধার করা মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান, ওসি সাইফুল ইসলাম।