ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার ঈশ্বরদীতে হঠাৎ হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এই রোগে
আক্রান্ত হয়ে ৯ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এখন পর্যন্ত উপজেলায় আরও ৮ জনের শরীরে
হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। মারা যাওয়া শিশুটির নাম এ রহমান।
সে উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের চর গড়গড়ি গ্রামের মনিরুলের ছেলে। আক্রান্ত হওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত ১৫ জন সন্দেহভাজন রোগীর নমুনা পরীক্ষার জন্য রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে ৮ জনের ফলাফল পজিটিভ এসেছে।
বর্তমানে হাসপাতালে একজন ভর্তি আছেন এবং বহির্বিভাগ থেকে আরও ৪ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ইপিআই অ্যান্ড সার্ভিল্যান্স শাখা থেকে মাঠপর্যায়ে
বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাজ্জাদ স্বাক্ষরিত এক জরুরি নির্দেশনায় সন্দেহভাজনদের নমুনা দ্রুত আইপিএইচ ল্যাবরেটরিতে পাঠানো, আক্রান্তদের ভিটামিন-এ ক্যাপসুল প্রদান এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আলী এহসান উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। এতে জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হওয়া ও শরীরে লাল ফুসকুড়ি দেখা দেয়। যা থেকে নিউমোনিয়া বা ডায়রিয়ার মতো জটিলতা এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।
তিনি আরও জানান, এই রোগ প্রতিরোধের কার্যকর উপায় হলো টিকা। সরকারি সময়সূচি অনুযায়ী প্রতিটি শিশুকে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা দেওয়া জরুরি। টিকাটি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। কোনো শিশুর জ্বর বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ এবং অন্যদের সংক্রমণ এড়াতে আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।