নিনা আফরিন ,পটুয়াখালী : ছয় মাসের নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা থাকলে তিন বছর পরও একটি সেতু নির্মাণের কাজ সমাপ্ত না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দুই গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ কওে তারা জড়িত ঠিকাদারের শাস্তি দাবী করেছেন। পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চর কচুয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সুত্র জানায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের গ্রামীণ সড়কে ১৫ মিটার পর্যন্ত সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের দিয়ারা কচুয়া জনতা বাজার খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৬৬ লাখ ৮ হাজার ৯৯৮ টাকা।
গবনিন্ম দরদাতা হিসাবে সেতুর কাজটি পায় পটুয়াখালীর মেসার্স সাফিন এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চুক্তি অনুযায়ী ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কয়েক দফা সময় বাড়ানো হলেও কাজের কোনো অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়নি। সাড়ে তিন বছরে শুধুমাত্র দুটি পিলার নির্মাণ দৃশ্যমান হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক বছর ধরে নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ঠিকাদার লাপাত্তা থাকায় স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে সেতুর পাশে কাঠের একটি ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো তৈরি করে চলাচল করছেন। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন।
দক্ষিণ ও উত্তর কচুয়া গ্রামের হাজার হাজার মানুষের একমাত্র চলাচলের পথের এই সেতুটি দ্রুত নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আনোয়ার হোসেন (৪৮) বলেন, “২০২৩ সালে ব্রিজের কাজ শুরু হয়। কিছুদিন কাজ করার পর ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দেন। পরে অল্প কিছুদিন কাজ করে প্রায় এক বছর ধরে লাপাত্তা।” আরেক বাসিন্দা মজিবর রহমান মাঝি (৫৩) বলেন, “ঠিকাদারের কাঠের সাঁকো তৈরি করে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা না করায় আমরা নিজেরাই চাঁদা তুলে সাঁকো বানিয়ে চলাচল করছি। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন।”
একই এলাকার বাসিন্দা রহিমা বেগম (৩৯) বলেন, “নড়বড়ে সাঁকোর কারণে অনেক সময় ছেলে-মেয়েরা স্কুল-মাদ্রাসায় যেতে পারে না। অনেকেই পড়ে গিয়ে আহত হয়েছে। এ বিষয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মোর্শেদ মুরাদ বলেন, “যখন কাজ শুরু হয় তখন আমি এখানে কর্মরত ছিলাম না। ঠিকাদারকে ৩৩ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। যোগদানের পর বিষয়টি জানতে পেরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ শুরু করতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু না হলে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”