অনিরুদ্ধ রেজা, কুড়িগ্রামঃ কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ও সোনাহাট ইউনিয়নের দুধকুমার নদের উপর ব্রিটিশ শাসনামলে নির্মিত হয় সোনাহাট ব্রীজ। বর্তমানে কালের আর্বতনে ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে পাটাতন সহ ব্রীজের বিভিন্ন অংশ।
এ সোনাহাট ব্রীজে পারাপারের ক্ষেত্রে কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগ সহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থদের সিদ্ধান্তক্রমে ব্রীজের উপর দিয়ে ভারী মালামাল বোঝাই যানবাহন চলাচলে নিষেধ থাকলেও তা কোনও ভাবেই মানা হচ্ছে না।
নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলা প্রায় ১০ টি ইউনিয়নের মানুষজন প্রতিনিয়ত চলাচল করেন এই ব্রীজের উপর দিয়ে। এছাড়া সোনাহাট স্থলবন্দরটি ব্রীজের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত হওয়ার প্রতিনিয়ত বন্দরের কার্যক্রম অব্যবহত রাখার জন্য শত শত মালবাহী ট্রাক ব্রীজের উপর দিয়ে চলাচল করছে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত।
বিগত ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের ৯ তারিখে ভুরুঙ্গামারী উপজেলা প্রশাসন এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সভায় সিদ্ধান্ত হয় ব্রীজের উপর দিয়ে সর্বোচ্চ ৪ শত সিয়েফটি যাহা ১৭ টনের অধিক মালবাহী ভারী যানবাহন চলা নিষেধ। কিন্তু তা কোন ক্রমেই মানা হচ্ছে না।
এবিষয়ে নাম জানাতে অনিচ্ছুক একাধিক বিশ্বস্ত সুত্র জানায়, স্থানীয় একটি চক্র ৬ চাকার ট্রাকের পরিবর্তে ১০ চাকার ট্রাক পারাপারের অবৈধ কাজটি চালিয়ে যাচ্ছে। যা ৩০ টনের অধিক মালামাল বোঝাইয়ে সক্ষম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এভাবে মাত্রাতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকলে যে কোন সময় ব্রীজটি ভেঙে গিয়ে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এবিষয়ে সোনাহাট ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা মামুন বলেন,সামনে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এলাকার কর্মমুখী মানুষজন বাড়িতে ছুটে আসবে পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদ করতে। কিন্তু এভাবে ভারী যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকলে ব্রীজটি যে কোন সময় ভেঙ্গে পড়বে। সে ক্ষেত্রে ঈদ উপলক্ষে কর্মমুখী মানুষের ভোগান্তির মাত্রা বহুগুণে বেড়ে যাবে।
এবিষয়ে ভুরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহাদাৎ হোসেন ভলেম্ন, ব্রীজের উপর দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল কোন ক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়।এটা অব্যাহত থাকলে যানবাহন গুলিকে বিধিনিষেধ মানতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে মোবাইল কোট পরিচালনা পরিচালনা করা হবে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী নিজাম উদ্দিন জানান, পুরাতন ব্রীজটির দক্ষিণ পাশে নতুন ব্রীজের কাজ নির্মাণাধীন রয়েছে। চলতি বছরের ব্রিজটির কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমানে জন দূর্ভোগ কমাতে পুরাতন ব্রীজটি মেরামতের কাজ কয়েক দফায় সম্পন্ন করা হয়েছে।