চরভদ্রাসন ও সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাথাভাঙ্গা, মিদ্দাডাঙ্গী ও গোপালপুর ঘাট এলাকায় দিন-রাত অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে ফসলি জমির উর্বর উপরের স্তর (টপসয়েল) কেটে ট্রাক ও ট্রলির মাধ্যমে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ধীরে ধীরে উপজেলার ভৌগোলিক মানচিত্রও ছোট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বেশ কিছুদিন ধরে গভীর রাত থেকে শুরু করে দিনের বেলাতেও বিভিন্ন ট্রাক ও ট্রলি দিয়ে জমির মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। এতে জমির উপরিভাগ নষ্ট হয়ে পড়ছে এবং অনেক ক্ষেতেই জমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে। তারা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের নজর এড়িয়ে প্রভাবশালী একটি চক্র এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
কৃষকদের মতে, ফসলি জমির টপসয়েলই মূলত জমির উর্বরতার প্রধান উৎস। এই স্তর কেটে নেওয়া হলে জমিতে ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে কৃষকরা ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।
এলাকার সচেতন মহল বলছে, অবৈধভাবে মাটি কাটার কারণে জমির উচ্চতা কমে যাচ্ছে এবং নদী ও আশপাশের এলাকার ভারসাম্যও নষ্ট হচ্ছে। দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে চরভদ্রাসন উপজেলার অনেক এলাকা ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, যাতে কৃষিজমি ও এলাকার পরিবেশ রক্ষা করা যায়।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী।