শিরোনাম
◈ নতুন মার্কিন বাণিজ্য নীতি: বাংলাদেশের রপ্তানিতে মারাত্মক হুমকি ◈ গুরুতর আহত মোজতবা খামেনি, গোপনে মস্কোতে অস্ত্রোপচার—আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি ◈ সৌদির সাড়ে ৭০০ মাইলের পাইপলাইন কি হরমুজ প্রণালির বিকল্প হতে পারবে ◈ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ কীভাবে কোটি মানুষের খাদ্য সংকট ডেকে আনতে পারে: আরটি’র রিপোর্ট ◈ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন বাণিজ্য জোটে বাংলাদেশের নজর ◈ সি‌রিজ জ‌য়ে আন‌ন্দিত ত‌বে শেষ ওভা‌রে ১৪ রান লাগ‌বে ব‌লে ভ‌য়ে ছিলাম: মিরাজ ◈ ক্রেডিট কার্ডের ঋণসীমা বাড়ালো কেন্দ্রীয় ব্যাংক, সর্বোচ্চ মিলবে ৪০ লাখ টাকা ◈ তানজিদের সেঞ্চুরি, তাসকিনের ঝলক—পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয় ◈ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে এলোপাতাড়ি গুলি, একজন আহত ◈ প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সেজিল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে ইরান

প্রকাশিত : ১৪ মার্চ, ২০২৬, ০৭:৩৬ বিকাল
আপডেট : ১৫ মার্চ, ২০২৬, ১১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিরলে ঘূর্ণিঝড় ও প্রচন্ড শিলাবৃষ্টি হবার ২দিনেও পৌঁছাইনি সরকারি অনুদান

এম, এ কুদ্দুস, বিরল (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুরের বিরলে ঘূর্ণিঝড় ও প্রচন্ড শিলাবৃষ্টি হবার প্রায় ২দিন পার হলেও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছাইনি কোন রকম সরকারি অনুদান, ত্রাণ সামগ্রী ও বিদ্যুৎ। নির্ণয় করা হয়নি ক্ষয়-ক্ষতির পরিমানও। ফলে ওই এলাকা গুলোতে এখন পর্যন্ত অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে রয়েছে। সেই সাথে প্রকাশ্যে লুট-পাট হচ্ছে ঝড়ে পড়া মুল্যবান সরকারি গাছ-পালা গুলো।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বিরল উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় হঠাৎ করে ঘূর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টি  আঘাত হানে। এতে উপজেলার ৪নং শহরগ্রাম, ৫নং সদর ও ৬নং ভান্ডারা ইউপি’র বেশ কয়েকটি গ্রাম লন্ড-ভন্ড হয়ে যায়। তবে এই ক্ষয়ক্ষতির করুণ দৃশ্য দেখা গেছে  ৬নং ভান্ডারা ইউনিয়নে বেশি। প্রচন্ড বাতাস ও শিলাবৃষ্টির কারণে অনেকের বাড়ি-ঘর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টিনের চালা উড়ে গেছে। কারো কারো বাড়ি ঘরের উপরে গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি পড়ে ব্যপক ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন পাকা রাস্তার পাশেও বড় ও উঁচু উঁচু গাছ ভেঙ্গে ও উপড়ে পড়ে রাস্তা ভেঙ্গে গিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। সেই সাথে আম-লিচু, কাঁঠাল-কলাসহ অন্যান্য ফলের গাছ ও ভ’ট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যপক ক্ষতি হয়েছে।

ভান্ডারা ইউপি’র দক্ষিণ রঘুনাথপুর গ্রামের ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাক্তি আব্দুল কাফি জানান, ঘূর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে আমার বাড়ির সব টিনের চালা উড়ে গেছে। বিভিন্ন ফলের গাছ ভেঙ্গে গেছে। আমার মত এই এলাকার প্রায় সবারই কম বেশি ক্ষতি হয়েছে। আমি এখন পর্যন্ত আমার ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটি ঠিক করতে পারিনি। ঝড়ের পর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এই এলাকায় এখন পর্যন্ত কোন রকম সরকারি অনুদান বা ত্রাণ সামগ্রী আসেনি বা কেউ এব্যাপারে খোঁজ খবর পর্যন্তও নেয়নি।

একই কথা জানিয়েছেন,বেতুড়া গ্রামের মৃত রুপিন হাজদার স্ত্রী সানি মুরমু। তিনি জানান, ঝড়ের পর থেকে আমরা খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছি।

কৃষক একরামুল হক বাবু জানান, ঝড় ও শিলাবৃষ্টির কারণে আমার ৬ বিঘা জমির ভুট্টার আবাদ সম্পুর্নভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। আমি এই জমি গুলো অন্যের কাছ থেকে চুক্তিতে নিয়ে ভুট্টার আবাদ করেছিলাম। আমার অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। তাঁর মত আহাজারি ওই এলাকার অনেক কৃষকের।

এব্যাপারে বিরল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুম্মান আক্তার জানান, এই ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে এউপজেলায় ১ হাজার হেক্টর মোট ভ’ট্টা আবাদের ১৫ ভাগ ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া আম-লিচু গাছের ক্ষতি হয়েছে। তবে এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ৬নং ভান্ডারা ইউনিয়ন এলাকায় বেশি দেখা গেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার (পিআইও) আরিফুর রহমান জানান, ঝড় ও শিরাবৃষ্ট হবার পর আমরা ইউনিয়ন পরিষদ গুলোকে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করতে বলেছি। তবে তালিকা এখনো পাইনি। তালিকা পেলে শুকনা খাবার ও ঢেউটিনের ব্যবস্থা করা হবে।

দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর বিরল জোনাল অফিসের ডিজিএম আব্দুর রশিদ জানান, ঝড়ের পর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা গুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন আছে। আমাদের লোকজন নিরলস ভাবে কাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা বিদ্যুতের সংযোগ দিতে পারবো।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়