শিরোনাম
◈ মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় প্যানিক, সন্ধ্যা থেকেই তেল নেই অনেক পাম্পে ◈ পুনরায় চালু হচ্ছে বন্ধ থাকা ৭টি পাটকল ◈ মাঝ আকাশে নিখোঁজ ভারতের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ◈ এয়ারপোর্ট ও বুর্জ খলিফা টাওয়ার ধ্বংসের ভিডিও নিয়ে যা জানা গেল ◈ জয়ের ফাঁস করা তালিকায় শীর্ষ চাহিদাসম্পন্ন ১৫ নায়িকা ◈ চলছে তালিকা তৈরির কাজ, চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের ধরতে যৌথ অভিযান ◈ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন: থামাতে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই বিশ্ব শক্তির ◈ খামেনির ছেলেকে পছন্দ নয়, সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতে চান ট্রাম্প ◈ দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ও পরিকল্পনায় ইবি শিক্ষিকা খুন—স্বামীর মামলায় ৪ আসামি ◈ স্কুল-কলেজের জন্য আসছে র‍্যাংকিং সিস্টেম: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশিত : ০৩ মার্চ, ২০২৬, ০৫:০৮ বিকাল
আপডেট : ০৫ মার্চ, ২০২৬, ১২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

এলপিজি গ্যাস পাম্পে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনায় পাম্প মালিক এন আলমের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলা 

সরওয়ার আজম মানিক,কক্সবাজার : কক্সবাজারের কলাতলীতে এলপিজি গ্যাস পাম্পে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনায় পাম্প মালিক নুরুল আলম ওরফে এন আলমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে বিস্ফোরক পরিদফতর।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছমি উদ্দিন।

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, কক্সবাজার সদর মডেল থানায় চট্টগ্রামের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক এস এম সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। রামু উপজেলার নুর আহমদ সিকদারের ছেলে পাম্প মালিক নুরুল আলমকে একমাত্র আসামি করে বিস্ফোরক আইন ১৮৮৪ এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বিধিমালা ২০০৪-এর আওতায়, তৎসহ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩০৪ ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতারসহ অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও যাচাই-বাছাই করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, গ্যাস পাম্পটি স্থাপনের জন্য জেলা প্রশাসনের অনাপত্তিপত্র, পরিবেশ অধিদফতরের সনদ, ফায়ার সার্ভিসের অনুমতিপত্র এবং বিস্ফোরক পরিদফতরের কোনো লাইসেন্স নেয়া হয়নি; যা সম্পূর্ণ বেআইনি। এজাহারে একজনের মৃত্যুসহ ১০ জন আহত হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) রাতে পাম্পের ট্যাংক থেকে গ্যাস লিকেজ হয়ে আগুন ধরে যায়। পাম্পের কর্মচারীরা প্রথমে বালু ও পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। কিন্তু পরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ভয়াবহ রূপ নেয়। এই আগুন দ্রুত আশপাশের ঘরবাড়িসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় ৩০টি গাড়ি, ৪টি বাড়িসহ নানা অবকাঠামো পুড়ে ছাই হয়ে যায় এবং ১৫ জন দগ্ধ হন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত ৬ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান মোহাম্মদ এস খালেদ জানিয়েছিলেন, ‘চিকিৎসাধীন ৬ জনের মধ্যে আবু তাহেরের শরীরের ৯০ শতাংশ, রহিমের ৫০ শতাংশ, সিরাজের ৪০ শতাংশ, সাকিবের ৩০ শতাংশ এবং মেহেদি ও মোতাহেরের ২০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।’

আগুনে দগ্ধ অটোরিকশাচালক আবু তাহের (৪২) তিন দিন পর রোববার (১ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি কক্সবাজার শহরের কলাতলী আদর্শ গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে।

আদর্শ গ্রাম সমাজ কমিটির সভাপতি নছির উদ্দিন জানান, সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে ঢাকা থেকে ময়নাতদন্ত শেষে আবু তাহেরের মরদেহ নিয়ে স্বজনরা কক্সবাজারের আসার পর জানাজা শেষে সোমবার রাতে দাফন করা হয়।

এ বিষয়ে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছমি উদ্দিন বলেন, ‘ঢাকায় চিকিৎসাধীন একজনের মৃত্যুর বিষয়টি আমরা অবহিত হয়েছি। 

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলমকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। আগামী ৭ দিনের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়