হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুর শহরে মাদকের পাওনা টাকা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রাজু ওরফে বাটুল রাজু (৩৮) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে।
সোমবার (০২ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত আনুমানিক ৯টা ৪৫ মিনিটে ফরিদপুর শহরের রেলস্টেশন বাজার সংলগ্ন বস্তি এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে মাদকের পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ চলছিল বলে দাবি এলাকাবাসীর। ওই বিরোধের জের ধরেই শিল্পীর মেয়ে ও তার জামাই হৃদয়সহ কয়েকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে রাজুর ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা রাজুকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তার পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে দ্রুত পালিয়ে যায় তারা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মারা যান।
নিহত রাজু কোতয়ালী থানার কুটিবাড়ী স্টেশন বাজার মুসলিম কলোনি ২ নম্বর কুটিবাড়ীর বাসিন্দা। তার পিতা বাবলু কসাই। পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা শুরু করে। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্তে মাদক সংক্রান্ত আর্থিক বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে।
মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত হন।
পুলিশ সুপার বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
এব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন মুঠোফোনে জানান, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
এদিকে, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পরিবার থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।