আজিজুল হক, বেনাপোল(যশোর) : যশোরের শার্শায় গ্রাম্য ডাক্তার আলামিন হত্যায় চাকুরীচ্যুত এক পুলিশ সদস্যসহ ৫ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের হয়েছে। এঘটনার ২ দিন পর ৩ জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা তিন জনেই সক্রিয় বিএনপি কর্মী বলে এলাকায় পরিচিত। তবে আটককৃতদের স্বজন ও বিএনপি নেতাদের দাবি তাদের মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে তারাবি নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তাকে মটর সাইকেল থামিয়ে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় আলামিনকে। হত্যার শিকার ডাক্তার আলামিন শার্শার গাতিপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে।
নিহতের ভাই মিল্লুর রহমান বাদী হয়ে আজ শার্শা থাকায় এই হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেন।
গ্রেফতার আসামীরা হলেন, শার্শা উপজেলার নাভারণ-দক্ষিণ বুরুজবাগান গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে আলাল হোসেন, জামির হোসেনের ছেলে লালন হোসেন এবং আব্দুল কাদেরের ছেলে সেলিম মিয়া।
এ মামলার পলাতক প্রধান আসামী আলামীনের দ্বিতীয় স্ত্রীর স্বামী চাকুরীচ্যুত পুলিশ সদস্য মশিউর রহমান পলাতক রয়েছে।
শার্শা থানা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহীর জানান, তিনি খোজ নিয়ে জানতে পেরেছেন আলামীনের দ্বিতীয় বউ তাসলিমা খাতুন ও তার সাবেক স্বামী মশিউর দু জনেই পুলিশে চাকুরী করতো। কয়েক কোটি টাকা দূনীতির অভিযোগে তাদের চাকুরী চলে যায়। জেল হয় মশিউয়েরর। এর পর ঐ নারী অনেক টাকা নিয়ে স্বামীর ঘর ছেড়ে বাপের বাড়ি নাভরনে চলে আসে। বিয়ে করে গ্রাম্য ডাক্তার আলামিনকে। হাসপাতালে রোগী দেখানো নিয়ে দ্বন্ধে কয়েক মাস আগে আলামিনকে মারধোরের অভিযোগ ওঠে ৩ ফার্মেসী ব্যবসায়ী নামে। এরা তিন জন তার দলীয় কর্মী। কয়েক মাস আগে আলামীনকে মারধোরের ঘটনায় তিন জনের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিল আলামিন। এতে হত্যায় ঘটনায় পুলিশ সন্দেহ জনক ৩ জনকে আটক করে চালান দিয়েছে। তিনি বলেন, অপরাধ করলে অবশ্যই শাস্তি হবে, তবে এরা তিন জন ব্যবসা করেন। কোন ভাবে হত্যার সাথে জড়িত থাকতে পারেনা।
শার্শা থানা পুলিশের ওসি তদন্ত শাহা আলম জানান, আলামিনের দ্বিতীয় বিয়ে সংক্রান্ত ঘটনায় হত্যা হতে পারে। এ মামলায় একজন চার্জশিট ভুক্ত আসামী ও ৪ জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৩ জনকে গ্রেফতার করে শনিবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়। প্রধান চার্জশিট ভুক্ত আসামী চাকুরীচ্যুত পুলিশ কন্সেটেবলকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে ৩ জনকে আটকের ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যায় আলামীনের মরদেহ দাফনে বাঁধা দেয় আটককৃত আসামীদের স্বজনরা। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে মরদেহ দাফন করা হয়।
আলামীনের বাবা রফিকুল ইলমাম জানান, তিনি বৃদ্ধ। তার সংসার চালাতেন আলামীন। তার ছেলে হত্যার সাথে প্রকৃত জড়িতদের যেন কঠিন শাস্তি হয়।