এম আর আমিন, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপকূলে তীরপ্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজে দৃশ্যমান অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের ভাঙন ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি থেকে উপকূলীয় জনপদকে সুরক্ষা দিতে পাউবোর বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের কাজ এখন গতি পেয়েছে। ইতোমধ্যে বাঁধের মূল কাঠামো নির্মাণের বেশ কিছু অংশ সম্পন্ন হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই শুরু হচ্ছে জিও-ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম। সমুদ্রের ঢেউ ও জোয়ারের চাপ মোকাবিলায় বাঁধের ঢালে স্থায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই জিও-ব্যাগ বসানো হবে। এতে করে ভাঙন রোধের পাশাপাশি উপকূলের বসতভিটা, সড়ক ও কৃষিজমি আরও সুরক্ষিত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, দ্রুত সময়ের মধ্যে পুরো কাজ শেষ হলে বর্ষা ও ঘূর্ণিঝড় মৌসুমে উপকূলীয় মানুষ অনেকটাই স্বস্তি পাবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ড চলমান কাজের সাথে সঙ্গতি রেখে বাঁশখালী ও আনোয়ারা উপজেলার অবশিষ্ট অরক্ষিত অংশ সুরক্ষায় ৮৭৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা,২০২৩ সালে ২৮ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় বরাদ্দ অনুমোদন দেন। বাঁশখালীর রায়পুর ও জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের খানখানাবাদ, বাহারছড়া, ছনুয়া, সাধনপুরে প্রকল্পটির কাজ করা হবে।
পানি ব্যবস্থাপনা ও ভাঙন রোধে তিন বছর মেয়াদি বাঁশখালী এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। গত বছর জুনে শুরু হয়ে ২০২৭ সালের জুনে প্রকল্পটি শেষ করার কথা রয়েছে।
এ প্রকল্পকে কৃষি উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও পানি ব্যবস্থাপনায় একটি বড় অগ্রগতি মনে করছেন এলাকাবাসী।
প্রকল্পের বাঁশখালী উপজেলায় ৭ দশমিক ৫১০ স্থায়ী তীর প্রতিরক্ষা কাজ করতে ডিপিপিটি করা হয়। এর মধ্যে ১১ দশমিক ৫৮৫ কিলোমিটার বাঁধ পুনরাকৃতিকরণ ও ঢাল সংরক্ষণ এবং ১ দশমিক ১০ কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষণ করা হবে।
প্রকল্পের কাজ ধীরগতি দেখা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, গত ৫ আগস্টের পর স্থানীয় পর্যায়ে সৃষ্টি হওয়া রাজনৈতিক জটিলতা প্রকল্পের স্বাভাবিক অগ্রগতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রভাব, পক্ষ–বিপক্ষের দ্বন্দ্ব এবং সমন্বয়হীনতার কারণে প্রকল্পের কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোতে পারেনি। ফলে প্রকল্পের সামগ্রিক বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া প্রায় চার থেকে পাঁচ মাস ধীরগতির হয়ে পড়ে।গতবে বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, আগের জটিলতাগুলো কাটিয়ে উঠে এখন দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা যায়।
কাজের অগ্রগতি জানতে চাইলে বলেন,সাধনপুর,খানখানাবাদ,বাহারছড়া,ছনুয়া,নদী তীর সংরক্ষণ ও বাঁধ পুনরাকৃতিকরণ ও ঢাল সংরক্ষণ কাজ ১৩.৫০%,সিসি ব্লক ক্যাস্টিংও সিসি ব্লক ডাম্পিং কাজ চলমান,শীঘ্রই জিও-ব্যাগ ডাম্পিং কাজ শুরু হবে।মোট ১৫টি প্যাকেজে প্রকল্পের কাজ ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি প্যাকেজ বাঁধ ও ড্রেন সংরক্ষণ এবং ৩টি প্যাকেজ নদী তীর সংরক্ষণ সংক্রান্ত।
চলতি অর্থবছরে প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে ৬.৫০ শতাংশ এবং ক্রমপুঞ্জিত অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ১৩.৫০ শতাংশ।
উপকূলীয় এলাকায় নদী ও সমুদ্রের ভাঙন ঠেকাতে শিগগিরই জিও-ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তীররক্ষা বাঁধকে টেকসই ও শক্তিশালী করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সরঞ্জাম সংগ্রহের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের পওর (২)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী ড. তানজির সাইফ আহমেদ বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে নদী ও সাগরতীর সুরক্ষায় প্রকল্পের কাজ বর্তমানে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
তিনি জানান, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাঁশখালী উপকূলকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত করতে নির্মাণাধীন নতুন বাঁধ প্রকল্পের আওতায় বাঁধের ঢালে স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও টেকসই নির্মাণপদ্ধতি অনুসরণ করে কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে বাঁধটি জলোচ্ছ্বাস, বন্যা ও নদীভাঙনের চাপ সহ্য করতে সক্ষম হয়। প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপে মাননিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে প্রকল্প এলাকার বিভিন্ন ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনসাধারণের বসতবাড়ি, বাজার-ঘাট, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং অতি উর্বর আবাদি কৃষিজমি বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের কবল থেকে সুরক্ষা পাবে।পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।