জামাল হোসেন খোকন, জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা): ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে ভোটারদের নজর এবং প্রার্থীদের প্রচারণা তুঙ্গে। এই আসনের মোট ভোটার ৪,৯২,৪৩১ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২,৪৬,৭১৬ এবং নারী ভোটার ২,৪৫,৭১১। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার সংখ্যা ৪ জন। প্রায় ১৭০টি ভোট কেন্দ্রের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এবার আওয়ামী লীগ সরাসরি নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছে না। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আসনের প্রায় ১,৬০,০০০ থেকে ১,৮০,০০০ ভোট এখনও আওয়ামী লীগের ‘স্থায়ী ভোট ব্যাংক’। এই ভোট ব্যাংক যেকোনো প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে পারে।
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে: মাহমুদ হাসান খান বাবু (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ মার্কা, অ্যাড: রুহুল আমিন (জামায়াতে ইসলামী/১১-দলীয় জোট) থেকে দাঁড়িপাল্লা মার্কা ও হাসানুজ্জামান সজীব (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ): হাতপাখা মার্কা নিয়ে নির্বাচন করছেন।
নির্বাচনী পর্যবেক্ষকরা বলছেন, প্রতিটি প্রার্থী স্থানীয় আওয়ামী লীগের ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে তাদের ভুলত্রুটি স্বীকার করছে এবং নির্বাচনী সমর্থন চাইছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, যারা এই স্থায়ী ভোট ব্যাংক দখল করতে সক্ষম হবে, তারাই চুয়াডাঙ্গা-২ আসন দখল করতে পারবে। এছাড়া নির্বাচিত প্রার্থীকে এলাকার উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানে দায়িত্ব নিতে হবে।
স্থানীয় ভোটারদের ধারণা অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ ভোটের লড়াইয়ে না থাকলেও সাধারণ ভোটাররা যাকে ভোট দেবেন, তিনি আসনটি দখল করবেন। তাই প্রতিটি প্রার্থী নিজের কৌশল কাজে লাগাচ্ছে—নেতাকর্মীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন, সামাজিক ও ব্যক্তিগত বন্ধন গড়ে তোলা, এবং ভোটারদের নৈতিক ও রাজনৈতিক আস্থা অর্জনের চেষ্টা।
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের এই নির্বাচন প্রমাণ করবে, নির্বাচনী গণতন্ত্রে স্থায়ী ভোট ব্যাংকের প্রভাব কতটা শক্তিশালী। সাধারণ মানুষের মনোভাব এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের সমর্থনই এবার নির্বাচনের দিক নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা পালন করবে।