মোঃ জালাল উদ্দিন, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের ৩ ও ৪ নম্বর সংসদীয় আসনে প্রতীক বরাদ্দ ও মনোনয়ন প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে ১০ দলীয় জোটের রাজনৈতিক সমীকরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। একই জোটের একাধিক প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে থাকায় ভোটের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে মৌলভীবাজার–৩ (সদর–রাজনগর) আসনে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ আসনে খেলাফত মজলিস (ঘড়ি মার্কা) মনোনীত প্রার্থী আহমদ বেলাল ঘড়ি প্রতীক পেয়েছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল মান্নান পেয়েছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীক। স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের আন্দোলনের কারণে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বহাল রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে মৌলভীবাজার–৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (রিকশা মার্কা) মনোনীত এমপি প্রার্থী মাওলানা শেখ নূরে আলম হামিদী রিকশা প্রতীক পেয়েছেন। একই আসনে ১০ দলীয় ঐক্য সমর্থিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী প্রীতম দাশ শাপলা কলি প্রতীক পেয়েছেন।
মৌলভীবাজার–৪ সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রব কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের আলোকে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে চারটার পর মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। তিনি বলেন, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের এমন কোনো গ্রাম নেই যেখানে তিনি যাননি। ভোটের মাঠে ব্যাপক সাড়া থাকা সত্ত্বেও জোটের ঐক্যের স্বার্থে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।
জামায়াত প্রার্থী সরে দাঁড়ালেও একই জোটের পক্ষে মৌলভীবাজার–৪ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (রিকশা মার্কা) মনোনীত মাওলানা শেখ নূরে আলম হামিদী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রীতম দাশ উন্মুক্তভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
মনোনয়ন প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে অসন্তোষ দেখা দেয়। মনোনয়ন প্রত্যাহার ঠেকাতে মৌলভীবাজার–৩ ও ৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর দুই প্রার্থীর বাড়ি ঘেরাও করে অবস্থান নেন স্থানীয় সমর্থকরা। মৌলভীবাজার–৩ আসনে আব্দুল মান্নানের রাজনগর উপজেলার দত্তগ্রাম গ্রামের বাড়ি এবং মৌলভীবাজার–৪ আসনে অ্যাডভোকেট আব্দুর রবের কমলগঞ্জ উপজেলার ভাষানিগাঁও গ্রামের বাড়ি মঙ্গলবার সকাল থেকে ঘিরে রাখেন বিক্ষুব্ধ জনতা।
জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইয়ামির আলী বলেন, “এবারের নির্বাচনে জনগণ পরিবর্তন চেয়েছিল। আমাদের প্রার্থীরা সেই প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে কাজ করেছেন। তবে জোটগত সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।”
মৌলভীবাজার–৪ আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে জেলা প্রশাসক ৭ জনের মনোনয়ন বৈধ ও ২ জনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেন। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রব সরে দাঁড়ানোয় ভোটের মাঠে বাকি ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একই জোটের একাধিক প্রার্থীর উন্মুক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা মৌলভীবাজার–৪ আসনের নির্বাচনী মাঠকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে এবং ভোটারদের আগ্রহ বাড়াবে।