হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় মুজাহিদুল ইসলাম (১৭) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীর ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার বিলনালিয়া ময়েজউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ হামলা সংঘটিত হয়। ঘটনার সময় বিদ্যালয়টিতে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলছিল। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।
আহত মুজাহিদুল ইসলাম নগরকান্দা উপজেলার বিলনালিয়া গ্রামের মো. এনায়েত হোসেনের ছেলে। তিনি ফরিদপুর সরকারি কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। জানা গেছে, তার পিতা এনায়েত হোসেন তালমা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির।
মুজাহিদের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে বিলনালিয়া ময়েজউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একটি ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার জের ধরে দীর্ঘদিন ধরে মুজাহিদের সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দুপুরে ফেরদৌস, তরিকুল, শান্তসহ অন্তত ১৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুজাহিদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা চাইনিজ কুড়াল, চাপাতি ও গরু জবাইয়ের ছুরি দিয়ে মুজাহিদের মাথা, ঘাড়, পিঠ ও হাতে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
হামলার সময় মুজাহিদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের মতে, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর আঘাত রয়েছে এবং তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন।
মুজাহিদের পিতা এনায়েত হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তারা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এ হামলা করেছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি, ফলে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ জানান, এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতেই আহত শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে তিনি জানান।