হাবিবুর রহমান, পূর্বধলা (নেত্রকোনা) : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থী প্রত্যাহারের শেষ দিনে নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের রাজনৈতিক চিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। মনোনয়ন বাতিলের কারণে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী নির্বাচনী মাঠ থেকে ছিটকে পড়ায় এই আসনে কার্যত ত্রিমুখী লড়াই নিশ্চিত হয়েছে।
চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ফলে পূর্বধলায় এবারের নির্বাচন কেবল দলীয় জনপ্রিয়তার লড়াই নয়; বরং সংগঠনের শক্তি, ভোটব্যাংক ও মাঠ নিয়ন্ত্রণের কঠিন পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, পূর্বধলা আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯০ হাজার ১১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮৯৬ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৪২ হাজার ২১৯ জন। বিপুল সংখ্যক ভোটার, বিশেষ করে নারী ও তরুণ ভোটারের অংশগ্রহণ, এবারের নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী মাঠে না থাকায় দলটির বৃহৎ ভোটব্যাংক ও সমর্থকদের অবস্থান বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশের সমর্থক যেদিকে সংগঠিতভাবে ভোট দেবে, শেষ পর্যন্ত বিজয়ের পাল্লা সেদিকেই ঝুঁকে পড়তে পারে। ফলে আওয়ামী লীগের নীরব সমর্থন কিংবা ভোটারদের ভোটদানের প্রবণতা ত্রিমুখী এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফল নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে তিন দলেরই কেন্দ্রভিত্তিক প্রস্তুতি, স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের সক্রিয় ভূমিকা এবং ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর কৌশল নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে শেষ মুহূর্তের ভোটের হিসাব-নিকাশ এবং সাংগঠনিক দক্ষতাই জয়–পরাজয়ের মূল নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে পূর্বধলা আসনে এবারের নির্বাচন হতে যাচ্ছে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, যেখানে সামান্য ব্যবধানেই জয়–পরাজয়ের ফল নির্ধারিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।