ঈশ্বরদী (পাবনা) থেকে: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘড়িয়া)
আসন থেকে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও
সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম সরদার।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে ঈশ্বরদীতে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ
সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোট করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এই আসনে
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাবনা জেলা
বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির এই সদস্য বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বৃহত্তর
রাজনৈতিক স্বার্থের কথা বিবেচনা করেই তিনি নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। দলের
আদর্শের প্রতি নিজের অবিচল আস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে
গিয়ে কোনো ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা করতে তিনি চান না।
অতীতের স্মৃতি চারণ করে সিরাজুল ইসলাম সরদার বলেন, একসময় যখন প্রতিকূল পরিবেশে কেউ
ধানের শীষের প্রার্থী হতে আগ্রহী ছিলেন না, তখন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া
দিয়ে আমি নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলাম। এবার দলীয় মনোনয়ন না পেলেও তরুণ নেতাকর্মীদের মাঝে শৃঙ্খলা ও আদর্শের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতেই আমি সরে
দাঁড়িয়েছি।
এদিকে দলীয় সূত্র জানায়, সিরাজুল ইসলাম সরদার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেও পাবনা-৪ আসনে
এখনো বিএনপির আরেকজন বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। তিনি পাবনা জেলা বিএনপির
সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু।
নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একজন প্রভাবশালী নেতার সরে দাঁড়ানোয় এই আসনে
বিএনপির মূল প্রার্থীর অবস্থান অনেকটা সুসংহত হলো। তবে অপর বিদ্রোহী প্রার্থীর অনড়
অবস্থান শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফলে কী প্রভাব ফেলে, তা দেখতে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা
করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক নেতা আহসান হাবিব, আনজাম হোসেন ডন, দুলাল সরদার, আবদুর রশিদ সরদার, আবদুস সোবাহান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান, রুহুল আমিন বাবলু ও আবদুল লতিফসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।