ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কালামৃধা গোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও আওয়ামী লীগ নেতা মজিবুর হকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিনি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে একাধিক অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মজিবুর হক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের বড় বড় মেহগনি গাছ কেটে বিক্রির পাঁয়তারা চালান। পাশাপাশি স্কুলের ১৪টি দোকান নামমাত্র ভাড়ায় নিজের ঘনিষ্ঠ লোকজনের কাছে ইজারা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী কানিজ ফাতেমার বেতনের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, সরকারি জমি দখল করে তিনতলা ভবন নির্মাণের অভিযোগও করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে তিনি দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, স্কুল পরিচালনা কমিটির সঙ্গে গোপন সমঝোতার মাধ্যমে বিদ্যালয়ের গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আরও জানা যায়, মজিবুর হক শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রথমে আওয়ামী লীগ নেতা কাজী জাফরউল্লাহ এবং পরে নিক্সন চৌধুরীর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে রাজনীতি করেন। সর্বশেষ তিনি এনসিপিতে যোগ দেন। তার স্ত্রী কালামৃধা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এসব রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমেও তিনি প্রভাব খাটাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদে কর্মরত থাকলেও তিনি বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করে বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। তার বিরুদ্ধে ঢাকা, মাদারীপুর ও ভাঙ্গার বিভিন্ন থানায় আধা ডজন মামলা রয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত ২৬ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে কালামৃধা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ বিস্ফোরক মামলায় মজিবুর হককে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তিনি কারাগারে থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে এলাকাবাসী এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।