শিরোনাম
◈ ঢাকার যানজট কমাতে টোল থেকে বাস টার্মিনাল—প্রধানমন্ত্রীর ৮ নির্দেশনা ◈ মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের করণীয়-বর্জনীয় নিয়ে জরুরি নির্দেশনা ◈ ডিবিকে ফোনকল: আমি ভালো হয়ে যাবো, অস্ত্রসহ আমাকে নিয়ে যান ◈ ভ্রমণ আরও সহজ করতে এআই মোডে গুগলের নতুন ফিচার ◈ হামের উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, মোট ৯৬৩ ◈ সরকারের ছয় মাসে ১০ অভিযোগ চরমোনাই পীরের ◈ সব কাজ দ্রুত করা সম্ভব না হলেও সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ◈ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দেওয়া নিয়ে যা বললেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ◈ জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আইরিন খান ◈ বাংলাদেশে ৬ লাখ চাকরি ঝুঁকিতে, বাড়তে পারে দারিদ্র্য: বিশ্বব্যাংক

প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৬:৪৩ বিকাল
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

তরুণদের স্বপ্ন ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিরাপদ অনাথের মোড়: ফরিদপুরে দৃষ্টিনন্দন ট্রাফিক আইল্যান্ড

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর: ফরিদপুর শহরের ব্যস্ততম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর একটি ছিল অনাথের মোড়। প্রতিদিনই এখানে ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটত। বিশেষ করে রাতের বেলায় অসংগঠিত যান চলাচল ও স্পষ্ট দিকনির্দেশনার অভাবে পথচারী ও চালকদের ভোগান্তি ছিল নিত্যদিনের চিত্র। সেই ঝুঁকিপূর্ণ মোড়কেই এখন শহরের সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে ‘অনাথের মোড় চত্বর’।

জানা যায়, প্রায় ৪–৫ মাস আগে ফরিদপুরের একদল সচেতন তরুণ অনাথের মোড়ে একটি ট্রাফিক আইল্যান্ড নির্মাণের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও পৌরসভায় আবেদন করেন। উদ্দেশ্য ছিল দুর্ঘটনা কমানো ও যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরানো। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া না পাওয়ায় বিষয়টি নজরে আসে ফরিদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েলের। তরুণদের এই যৌক্তিক উদ্যোগে সাড়া দিয়ে তিনি নিজ অর্থায়নে এখানে একটি দৃষ্টিনন্দন চত্বর নির্মাণের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকেও উদ্যোগটিকে ইতিবাচকভাবে দেখা হয়। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পর ডিসেম্বর ২০২৫ সালে পৌর প্রশাসনের অনুমতিক্রমে ‘অনাথের মোড় চত্বর’ নির্মাণের কাজ শুরু হয় এবং স্বল্প সময়ের মধ্যেই তা সম্পন্ন করা হয়। আধুনিক নকশা, আলোকসজ্জা ও পরিকল্পিত কাঠামোর মাধ্যমে এটি এখন একটি কার্যকর ট্রাফিক আইল্যান্ডের পাশাপাশি নান্দনিক নগর স্থাপনায় রূপ নিয়েছে।

এই চত্বরের নকশা প্রণয়ন করেন ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদুল হাসান ওয়ালিদ এবং তার প্রতিষ্ঠান জিমাফ্ল্যাট। তিনি বলেন, “এই উদ্যোগের ফলে ওই এলাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমেছে। একই সঙ্গে অনাথের মোড়ের সৌন্দর্য বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এখানে এসে ছবি তুলছেন, ভিডিও করছেন—এটা সত্যিই আনন্দের।”

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল বলেন, “অনাথের মোড়ে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটত। স্থানীয় তরুণদের দাবির প্রেক্ষিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি একদিকে নিরাপদ ট্রাফিক আইল্যান্ড হিসেবে কাজ করবে, অন্যদিকে শহরের সৌন্দর্য বাড়াবে।”

ইতোমধ্যে ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনাথের মোড় চত্বরের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই এটিকে ফরিদপুর শহরের নতুন ল্যান্ডমার্ক হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ নগর উন্নয়নে জনসম্পৃক্ততার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এবং ভবিষ্যতে শহরের অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ মোড়েও এমন উদ্যোগ নেওয়া হলে ফরিদপুর আরও সুন্দর ও নিরাপদ নগরে পরিণত হবে।

  • সর্বশেষ