শিরোনাম
◈ বাংলাদেশি শনাক্তে এআই টুল তৈরি করছে ভারত ◈ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ ঢাকা–করাচি ফ্লাইটের সব টিকিট ◈ ভিসা নিয়ে বাংলাদেশকে বড় দুঃসংবাদ দিল অস্ট্রেলিয়া ◈ নির্বাচনী মাঠ ছাড়ছেন বিদ্রোহীরা, স্বস্তিতে বিএনপি-জোট ◈ মহাকাশ অভিযানে বড় ধাক্কা, যান্ত্রিক ত্রুটিতে ১৬ স্যাটেলাইটের নিয়ন্ত্রণ হারাল ভারত ◈ ‘তিন ভাই মিলে খুন করলেন কেন?’—মুসাব্বির হত্যা মামলায় বিস্মিত আদালত ◈ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিয়ের দাওয়াতে যাওয়া নিয়ে বাক-বিতন্ডা, সংঘর্ষে সাবেক ইউপি সদস্য নিহত ◈ ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ ◈ নির্বাচনের আগে ঘুরে দাঁড়ালো অর্থনীতি, প্রশংসিত ড. ইউনূসের নেতৃত্ব ◈ তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করে ক্ষমতায় টিকে থাকার মাস্টারপ্ল্যান ছিল: তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বিচারপতি শামীম

প্রকাশিত : ১২ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৯:১৭ রাত
আপডেট : ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

নবীনগরে জনপ্রিয় হচ্ছে জিরো টিলেজ ফসল আবাদ 

মো. কামরুল ইসলাম, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি : কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে জিরো টিলেজ বা শূণ্য চাষে আবাদ পদ্ধতি। জমি চাষ না করে কিংবা স্বল্প চাষে ফসল উৎপাদনের এই কৌশল কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জিরো টিলেজ পদ্ধতিতে জমি চাষ না করে আগের ফসলের অবশিষ্টাংশ রেখে সরাসরি বীজ বপন করা হয়। এতে উৎপাদন খরচ কমে, সময় ও শ্রম সাশ্রয় হয়। নবীনগরে সরিষা, মসুর, খেসারি, রসুন ফসলে এই পদ্ধতিতে ভালো ফলন দিচ্ছে। হালকা বালি-মাটিতে বাদামও জিরো টিলেজে আবাদ করা হয়েছে। রাজস্ব অর্থায়নে কুমিল্লা অঞ্চলের টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশ সাস্টেইনেবল রিকভারি ইমার্জেন্সি প্রিপারেডনেস অ্যান্ড রেসপন্স প্রকল্প (বি-স্ট্রং) এর আওতায় নবীনগর উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে স্বল্প চাষ কিংবা জিরো টিলেজ বা শূণ্য চাষের আওতায় ২১ টি ইউনিয়নের শতাধিক স্থানে বাদাম, সরিষা এবং ডালজাতীয় ফসল আবাদ করা হয়েছে।

শ্রীরামপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের কৃষক রাজিব মিয়া জানান, আমাদের ব্লকের উপসহকারী কৃষি অফিসার জনাব আবুল হোসেন পরামর্শে আমি শূণ্য চাষে সরিষা ছিটিয়ে দেই। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বি-স্ট্রং প্রকল্পের আওতায় একটি প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উপকরণ গ্রহণ করি। আগে যেখানে জমি চাষ, মই দেওয়া ও প্রস্তুত করতে অতিরিক্ত সময় এবং খরচ হতো, সেখানে জিরো টিলেজ ব্যবহারে খরচ প্রায় ৩০–৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমছে। একই সঙ্গে মাটির আর্দ্রতা বজায় থাকায় সেচের প্রয়োজনও কম হচ্ছে।

বিদ্যাকুট ইউনিয়নের কৃষক কুলসুম আক্তার জানান, আমি এই বছর প্রথমবারের মতো বিনা চাষে সরিষা আবাদ করতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গৌতম ভৌমিকের মাধ্যমে উৎসাহ পাই। এখন মাঠের সবার জমির আগে আমার জমি দ্রুত পরিপক্ক হচ্ছে দেখে স্থানীয় অনেক কৃষক আগামীতে উৎসাহ পাচ্ছে।

নবীনগর উপজেলায় চলতি মৌসুমে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রদর্শনী উপকরণ বিতরণ ছাড়াও উদ্ভুদ্ধকরণের মাধ্যমে প্রায় ২৫০ বিঘা জমিতে রোপা আমন ধান কর্তণের আগে রিলে পদ্ধতি এবং বিনা চাষে সরিষা আবাদ করা হয়েছে। উপজেলায় ডালজাতীয় ফসলের মধ্যে মসুর ২৫ বিঘা, রসুন ১০ বিঘা, বাদাম ২৫ বিঘা জমিতে বিনা চাষে এবং স্বল্প চাষে আবাদ করা হয়েছে। 

নবীনগর উপজেলার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, জিরো টিলেজ বা বিনা চাষে আবাদ মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এতে মাটির জৈব পদার্থ বৃদ্ধি পায়, উপকারী অণুজীব সক্রিয় থাকে এবং মাটির ক্ষয় কম হয়। এছাড়া, কার্বন নিঃসরণ কম হওয়ায় এটি পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কৃষকদের সময় এবং অর্থ দুটিই সাশ্রয় হয়। 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে নবীনগরের বিভিন্ন ইউনিয়নে কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে। এসব প্লটে সরিষা, মসুর, খেসারি সহজভাবে এবং বাদাম নির্দিষ্ট শর্তে জিরো টিলেজ পদ্ধতিতে আবাদ করে আশাব্যঞ্জক ফলন পাওয়া যাবে। বর্তমানে মাঠের দৃশ্য দেখে অন্যান্য কৃষকরাও আগ্রহী হয়ে উঠছেন। সঠিক প্রশিক্ষণ, মানসম্মত যন্ত্রপাতি ও কৃষক সচেতনতা বাড়ালে নবীনগরে জিরো টিলেজ আবাদ আরও বিস্তৃত হবে। এতে উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি কৃষকের লাভ বাড়বে এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থার দিকে এক ধাপ এগিয়ে যাবে অঞ্চলটি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়