সোহাগ হাসান জয়, সিরাজগঞ্জ: সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর চেয়ে তাঁর স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য রুমানা মাহমুদের সোয়া ৫ গুণ বেশি সম্পদের মালিক।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গত ২৯শে ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জ জেলা রিটার্নিং অফিসার কার্যালয়ে হলফনামায় তিনি এসব তথ্য উল্লেখ করেছেন। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সিরাজগঞ্জ-২ (সদর ও কামারখন্দ) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মোট ১০টি মামলা হয়েছিল। যা বর্তমানে জামিনে মুক্ত ও উচ্চ আদালত কর্তৃক স্থগিতাদেশ রয়েছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারী) সকালে জেলা নির্বাচন হলফনামায় ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর মোট অস্থাবর সম্পদ দেখানো হয়েছে ৪ কোটি ৬৪ লাখ ৮৩ হাজার ৬২৭ টাকা। সেখানে তার স্ত্রী রুমানা মাহমুদের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২৪ কোটি ৯৫ লাখ ৯২ হাজার ৭০৩ টাকা।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নগদ অর্থ ২ কোটি ১৩ লাখ ৫ হাজার ৬২৭ টাকা, বন্ড ঋণপত্র স্টক এক্সচেইঞ্জে শেয়ার ৩২ লাখ ৫৪ হাজার, মোটরযান ১০ লাখ, ইলেকট্রনিক্স পন্য ৩ লাখ ৯৯ হাজার ও আসবাবপত্র ৫ লাখ ২৫ হাজার, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ২ কোটি।
স্ত্রী রুমানা মাহমুদের নগদ অর্থ ৩ কোটি ৭৬ লাখ ৫২ হাজার ৪৫২ টাকা, বন্ড ঋণপত্র স্টক এক্সচেইঞ্জে শেয়ার ১৬ কোটি ৩৭ লাখ ৪১ হাজার ৮০০, ফিক্সড ডিপোজিট ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৫৩ হাজার ৪৫১ টাকা, মোটরযান ৬৫ লাখ, স্বর্ণালংকার ১ লাখ ৫০ হাজার, আসবাবপত্র ৯৫ হাজার, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ২ কোটি ৫০ লাখ টাকায়।
টুকুর স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২ লাখ ২৫ হাজার ৩০৭ টাকা। তাঁর স্ত্রীর স্থাবর সম্পদের মূল্য ৩৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বার্ষিক আয় মোট ৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৫৭ টাকা। এর মধ্যে কৃষিখাতে আয় ৩ লাখ এবং শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানতে বার্ষিক আয় ৫ লাখ ২৬ হাজার ৩৫৭ টাকা। টুকুর কোন ঋণমুক্ত থাকলেও স্ত্রী রুমানা মাহমুদ স্বামীর কাছেই ২ কোটি টাকা ঋণী।
উল্লেখ্য, টুকু সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের কয়েলগাঁতী গ্রামে ১৯৫০ সালের ১০ই মে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ তৎকালীন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের শিল্প ও প্রাকৃতিক সম্পদমন্ত্রী ছিলেন। সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী এম এ মতিন তার ভগ্নিপতি। তিনি ২০০১ সালে সিরাজগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।