ফারুক আহাম্মদ, ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লাইব্রেরি কক্ষে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিশু শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) ব্রাহ্মণপাড়া থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করলে ওই দিন সন্ধ্যায় পুলিশ অভিযুক্ত ওই শিক্ষক মোঃ মনিরুল হক কে গ্রেপ্তার করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের গোপালনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২৩ সাল থেকে ওই ছাত্রী নিয়মিত পড়াশোনা করছিল। বিদ্যালয়ে দপ্তরি না থাকায় প্রতিদিন সকালে শিক্ষার্থীদের দিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করানো হতো। পাশাপাশি কোচিং ক্লাস চলাকালে বিভিন্ন সময় অভিযুক্ত শিক্ষক ওই ছাত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়। বাদীর অভিযোগে বলা হয়, গত ১১ মার্চ কোচিং চলাকালে অভিযুক্ত শিক্ষক ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরি কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এরপর ভয়ভীতি ও পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে একাধিকবার একই ধরনের অপরাধ সংঘটিত করা হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের ২১, ২৭ ও ২৯ নভেম্বর ধর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ভয়ে বিষয়টি কাউকে জানাতে পারেনি শিশু শিক্ষার্থী। চলতি ডিসেম্বর মাসে পারিবারিকভাবে সন্দেহ তৈরি হলে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে শিশুটি পুরো ঘটনা জানায়। পরে পরিবার থানায় অভিযোগ দায়ের করে। এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) টমাস বড়ুয়া বলেন, এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ মনিরুল হক কে গ্রেপ্তার কর হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে তাকে কুমিল্লা জেলা বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ ছাড়া ধর্ষণের শিকার ওই শিক্ষার্থীকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠানো অহয়েছে। একই সঙ্গে তার আদালতে জবানবন্দি গ্রহণের প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করা হচ্ছে।