মোঃ আদনান হোসেন, ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি : ঢাকার ধামরাইয়ে বৈধ সংযোগের আড়ালে চার ইঞ্চি পাইপে বাইপাস লাইন তৈরি করে শিল্প কারখানায় অবৈধভাবে গ্যাস চুরির অভিযোগে মুন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে তিতাসগ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। একইসঙ্গে জব্দ করা হয়েছে বিভিন্ন আলামত ও গ্যাস মিটার।
গতকাল বিকেলে ধামরাই উপজেলার ইসলাম পুর এলাকায় অবস্থিত আফরোজা খান রিতার মালিকানাধীন মুন্নু সিরামিক্সের কারখানায় এ অভিযান পরিচালনা করে গাজীপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের তিতাসের ভিজিল্যান্স টিম।
তিতাস গ্যাসের গাজীপুর অঞ্চলের উপ মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আনোয়ার পারভেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নামমাত্র রিডিং ও গোপন অনুসন্ধানে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গোপন অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তিতাসের আঞ্চলিক ভিজিল্যান্স বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল আলীম রাসেলের নেতৃত্বে একটি দল প্রথমে কারখানায় প্রবেশের চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের অসহযোগিতার মুখে পড়ে। পরে কারখানার ভেতর ব্যাপক অনুসন্ধানে একটি সরাসরি বাইপাস লাইন ও ফলস আরএমএসের সন্ধান মেলে। জানা যায়, লো-প্রেশার থাকলে একটি বড় ক্ষমতার বুস্টার দিয়ে সরাসরি গ্যাস টেনে নেওয়া হতো কারখানায়।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তাদের প্রবেশে বাধা দেয় নিরাপত্তা কর্মীরা। পরে রাত ৯টার দিকে আলামত জব্দের সময় হঠাৎ কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিতাস কর্মকর্তারা দ্রুত অভিযানস্থল ত্যাগ করেন।টানা সাত ঘণ্টাব্যাপী এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপমহাব্যবস্থাপক আনোয়ার পারভেজ।
তিতাসের সাভার অঞ্চলের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, বকেয়ার দায়ে আগের চারটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। পরে একটি সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হলে সেই বৈধ লাইনকে আড়াল করে চার ইঞ্চি পাইপে অবৈধভাবে বাইপাস লাইন বসানো হয়—যা অনুসন্ধান কালে ধরা পড়ে।
তিনি আরও বলেন, “২০২৪–২৫ অর্থবছরে এলএনজি আমদানিতে সরকারের ব্যয় ছিল প্রায় ৫৪ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা—যা আগের বছরের তুলনায় ২৮.৯ শতাংশ বেশি। সেই ব্যয়বহুল গ্যাস থেকে এভাবে চুরি হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। কত গ্যাস চুরি হয়েছে তা নিরূপণ করে জরিমানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে মুন্নু সিরামিকস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কেউ মন্তব্য করতে চাননি।
সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত জুনে সমাপ্ত অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি মাত্র ৮৩ লাখ টাকা মুনাফা করেছে—যেখানে আগের বছর মুনাফা ছিল দেড় কোটি টাকার কাছাকাছি।