রতন কুমার রায়, ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডোমারে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে এক প্রসূতি’র মৃত্যুর পর ডোমার জেনারেল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর অপারেশন থিয়েটার(ওটি) সিলগালা করেছে প্রশাসন।
বুধবার (১০ডিসেম্বর) দুপুরে ডোমারের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুন্না রানী চন্দ’র নেতৃত্বে গঠিত একটি তদন্ত দল ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে ওটি সিলগালা করেন।
তদন্ত কমিটির সদস্য ডা. মো. আইনুল হক বলেন “ক্লিনিকে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। ট্রেড লাইসেন্সসহ প্রশিক্ষিত স্টাফও নেই। প্রয়োজনীয় বেশিরভাগ নথি দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে কর্তৃপক্ষ। সেসব অনিয়মের ভিত্তিতে ওটি সিলগালা করা হয়েছে।”
নিহত প্রসূতি’র নাম লক্ষী রায়(২৫)। তিনি ডোমার উপজেলার হরিনচড়া ইউনিয়নের নীলাহাটি শালমারা গ্রামের তাপস কুমার রায়ের স্ত্রী। ক্লিনিকের গাইনি বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত ডাক্তার অরাতুল আক্তার বিভার ভুল চিকিৎসার কারণে লক্ষীর মৃত্যু’র অভিযোগ করেছে তার পরিবার।
নিহতের স্বামী তাপস কুমার রায় বলেন “ডাক্তার জরুরী সিজারের কথা বলেছিলেন। আমরা রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু ভুল চিকিৎসার কারণেই আমার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসায় প্রায় ১২লাখ টাকা খরচ হলেও লাভ হয়নি। যেন অন্য কোনো পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ না হয়, তাই কঠোর ব্যবস্থা হওয়া জরুরি।”
গাইনি চিকিৎসক ডা. অরাতুল আক্তার বিভা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন “সিজারের সময় কোনো জটিলতা ছিল না। রোগীর জন্মগত কিডনি সমস্যা ছিল। এজন্য ডায়ালাইসিসের জন্য রংপুরে রেফার করা হয়েছিল। কিন্তু রোগীর স্বজনেরা কিডনি বিভাগে না গিয়ে গাইনি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন।”
হরিনচড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. রাসেল রানা বলেন “ঘটনার খবর পেয়ে আমাদের প্রতিনিধি পাঠানো হয়। পরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছি। আজ বুধবার সকালে নিহত নারীর দাহ সম্পন্ন হয়েছে।”
উল্লেখ্য, একই ক্লিনিক ২০২৩ সালেও ভুল চিকিৎসা বিতর্কে সমালোচনার মুখে পড়ে ক্লিনিক কতৃপক্ষ। তখন পেটব্যথা নিয়ে আসা ১৩বছরের এক মাদরাসা ছাত্রীকে গর্ভবতী বলে ভুল রিপোর্ট দেওয়ায় এলাকায় তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ক্লিনিকটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। তবে কিছুদিন পর তারা স্থান পরিবর্তন করে পুনরায় কার্যক্রম চালু করে।