হৃদয় হাসান, কুমিল্লা সদর: কুমিল্লা তিতাস উপজেলা প্রতিষ্ঠার ২১ বছরেও উপজেলা পরিষদ চত্বরে কোনো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে স্থাপিত 'শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ' নামক মিনারে বিভিন্ন দিবসে শ্রদ্ধা নিবেদন করে আসছে উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ স্কুল,কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। অবশেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া মমিনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ চত্বরে নির্মাণ করা হচ্ছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। দীর্ঘদিন পর এ উদ্যোগ গ্রহণ করায় মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি উপজেলা পরিষদ চত্বরের পূর্ব পাশে নির্মাণ কাজ শুরু হচ্ছে। আধুনিক নকশা ও টেকসই নির্মাণকাজের মাধ্যমে শহীদ মিনারটি সাজানো হবে, যাতে আগামী প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণে রাখতে পারে।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, তিতাস উপজেলায় একটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠা ছিল সময়ের দাবি। এখন এটির নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
এদিকে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলাউদ্দিন ফজলু বলেন, অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে উপজেলা প্রতিষ্ঠার ২১ পর একটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার তৈরি হচ্ছে, আমরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিতে পারবো, এতেই আমরা গর্বিত। এই উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার।
তিতাস উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া মমিন বলেন, “২০০৪ সালে তিতাস উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রতিষ্ঠার দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এখানে একটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার না থাকায় সকলের চাহিদার ভিত্তিতে, সবার মতামত নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ হচ্ছে এবং কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি আগামী ২১ ফেব্রুয়ারিতে তিতাসবাসী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারবেন।”