নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার পশ্চিম চর জুবলি গ্রামে প্রতিবেশী যুবকের সঙ্গে পরকীয়ার ঘটনা আড়াল করতে নিজ ঘরে চুরির নাটক সাজিয়ে নগদ টাকা নিয়ে নিয়ে উধাও হলেন রোকেয়া বেগম নামের এক গৃহবধূ। এই ঘটনায় পরকীয়া প্রেমিক ও চুরির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করায় বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। এতে নিরাপত্তাহীনতায় গত ছয় মাস ধরে এলাকা ছাড়া রয়েছেন ভুক্তভোগী স্বামী।
রোববার (৩১ আগস্ট) সকালে উপজেলার পশ্চিম চর জুবলি গ্রামের নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ তুলে ধরেন স্থানীয় মৃত নুর ইসলামের ছেলে মো. নুরুজ্জামান।
ভুক্তভোগী মো. নুরুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবেশী মোস্তফার সঙ্গে কয়েক বছর আগে পাশের একটি বর্গা জমি নিয়ে বিরোধ হয় তাঁর। ওই বিরোধের জেরে মোস্তফা তাঁর স্ত্রী রোকেয়া বেগমের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে প্রতিশোধ নেয়ার চেষ্টায় লিপ্ত হন। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি তাঁর স্ত্রী রোকেয়াকে শাসনের ভাষায় গালমন্দ করেন। চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় অফিসের কাজে তিনি ঢাকায় গেলে স্ত্রী রোকেয়া ক্ষুব্ধ হয়ে ওই রাতেই পরকীয়া প্রেমিক মোস্তফা, তার সহযোগী ফারুক, আবদুল করিম ও শাহারাজকে দিয়ে চুরির নাটক সাজিয়ে ঘরে থাকা নগদ ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা সরিয়ে ফেলেন। পরে তিনি বিষয়টি জানতে পেরে নোয়াখালী জেলা জজ আদালতে মামলা করেন।
নুরুজ্জামান বলেন, চুরির নাটকের দুইদিন পরই স্ত্রী রোকেয়া বেগম তাঁর বাড়ি থেকে পালিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান। পরবর্তীতে আদালতে দায়ের করা মামলার তদন্তে এবং স্ত্রী রোকেয়া বেগমের মুঠোফোনের কল লিস্টে প্রতিবেশী মোস্তফার সঙ্গে পরকীয়ার ঘটনা ও চুরির নাটকের বিষয়টি পরিস্কার বেরিয়ে আসে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আদালতে মামলাটি করার পর থেকে আসামি মোস্তফা, ফারুক, আবদুল করিম, শাহারাজ, শরীফ ও আমির হোসেন মামলাটি তুলে নিতে তাঁকে চাপ প্রয়োগ করেন। এক পর্যায়ে মামলা তুলে না নিলে তারা প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকেন এবং এলাকায় দেখলেই অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করেন। পরে তাদের ভয়ে বাধ্য হয়ে গত ছয় মাস নিজ বাড়ি-ঘর ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলেও জানান নুরুজ্জামান।
ভুক্তভোগী নুরুজ্জামান বলেন, তিনি মোস্তফা ও তার সহযোগীদের হুমকিতে বাড়ি-ঘরে ডুকতে না পারায় খানসাব নামের এক ব্যক্তির কাছে তার বসতঘর ভাড়া দেন। গতকাল শনিবার (৩০ আগস্ট) সকালে তাঁর ভাড়াটিয়া খানসাব বাড়ির চলাচলের সাঁকো তৈরী করতে গেলে মোস্তফা ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রসহ হামলা চালিয়ে ভাড়াটিয়াকে তাড়িয়ে দেয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তিনি।
নুরুজ্জামান অভিযোগ করেন, হুমকির ভয়ে তিনি বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে ঘটনার ন্যায় বিচার ও তাঁর জীবনের নিরাপত্তা দাবি করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোহাম্মদ মোস্তফার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরকীয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নুরুজ্জামানের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। তা তিনি আইনিভাবেই মিমাংসা চান। হুমকি ও হামলার অভিযোগও অস্বীকার করেন এই ব্যক্তি।
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিন মিয়া বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা জানান, এলাকায় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে না পেরে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নুরুজ্জামান নামের ওই ব্যক্তি। এই ঘটনার সুস্থ সমাধান দাবি করেন তারা।