শিরোনাম
◈ ভেনেজুয়েলায় ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুই শক্তিশালী ভূমিকম্প, ১ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুর শঙ্কা! ◈ নিজ খরচে ১,০০০ মুসলিমকে ওমরাহ করাচ্ছেন সৌদি বাদশাহ ◈ ঢাকার কাছে ভূমিকম্পের উৎস, বড় ঝুঁকির আশঙ্কা কতটুকু? ◈ পর্যটক ও বাসিন্দাদের জন্য ‘সিভিলিটি গাইডবুক’ আনছে দুবাই ◈ লাল কার্ডের পর এবার ৫ ম্যাচ নিষিদ্ধ কাতারের মিডফিল্ডার ◈ এবার মাজারের অর্থ নিয়ে ডিসি সারওয়ারের কল রেকর্ড ভাইরাল ◈ তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের ফল মিলবে আগামী মাসেই:: শ্রমমন্ত্রী ◈ উপদেষ্টা জাহেদ ইস্যুতে ভারতের ব্যাখ্যা ‘সন্তোষজনক নয়’ : ঢাকা ◈ টেস্ট খেল‌তে জিম্বাবুয়ে গে‌লো বাংলা‌দেশ ক্রিকেট দল  ◈ কুরআনের আয়াত নিয়ে ‘ঠাট্টা-বিদ্রুপসহ ভুল ব্যাখ্যার অভিযোগ: সংসদে মুখোমুখি সরকারি ও বিরোধীদল

প্রকাশিত : ৩০ আগস্ট, ২০২৫, ০৩:৫৯ দুপুর
আপডেট : ১৬ জুন, ২০২৬, ০৩:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার গরীবের পুষ্টির সম্ভার শালুক ও ঢেপ

লিয়াকত হোসেন জনী, মধুপুর, টাঙ্গাইল : বাংলার জলাভূমি—পুকুর, খাল, বিল ও ঝিলে একসময় প্রচুর জন্মাতো শালুক ও ঢেপ। বিশেষ করে দরিদ্র মানুষের খাদ্যতালিকায় এটি ছিল সহজলভ্য পুষ্টির উৎস। দুপুরে স্কুল থেকে ফিরে কৃষক পরিবারের সন্তানরা ভাতের সঙ্গে খেত সেদ্ধ ঢেপ বা শালুক। প্রাকৃতিক এই খাদ্য একসময় ছিল গরীব মানুষের জীবনধারার অংশ। অথচ আজ তা প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে।

শালুক ও ঢেপের পরিচয়

শালুক হলো জলজ উদ্ভিদের কন্দ, যা খেতে নরম ও মিষ্টি স্বাদের। বৈজ্ঞানিক নাম Nymphaea nouchali, যা সাধারণভাবে Blue Water Lily নামে পরিচিত। এটি পানির নিচে কাদায় জন্মে এবং আলুর মতো খাওয়া যায়। ঢেপ আসলে শালুকের অপরিণত কন্দ বা শিকড়ের আগা, যা তুলনামূলকভাবে ছোট, সাদা ও নরম। উভয়ই পুকুর, খাল, বিল ও ঝিলে জন্মে।

পুষ্টিগুণ

প্রতি ১০০ গ্রাম শালুকে প্রায় ৯৭ কিলোক্যালরি শক্তি রয়েছে। এতে শর্করা, আঁশ, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামসহ ভিটামিন C ও B কমপ্লেক্স পাওয়া যায়। শিশুখাদ্য হিসেবে ঢেপ বিশেষভাবে উপযোগী। শালুকের কিছু প্রজাতির পাতা, বীজ ও ফুলও খাওয়ার যোগ্য এবং আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এছাড়া ঢেপ দিয়ে খই, লাড্ডু তৈরি হয়।

সংকটের কারণ

  • প্রাকৃতিক জলাশয়ের দ্রুত হ্রাস
  • কৃষিজমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক ও কীটনাশক ব্যবহার
  • বাণিজ্যিক মাছচাষের বিস্তার
  • জলাভূমি ভরাট ও নগরায়ন

পরিবেশ গবেষণা অনুযায়ী, গত তিন দশকে বাংলাদেশের প্রায় ৫০% প্রাকৃতিক জলাশয় ভরাট বা ধ্বংস হয়েছে। এর ফলে শুধু শালুক নয়, আরও বহু জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণী হারিয়ে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের অনেকেই এখন আর শালুক বা ঢেপের নামই জানে না।

চাষাবাদ ও সংরক্ষণ

ভারত, চীন, থাইল্যান্ড ও জাপানে শালুক বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয় এবং সুপারফুড হিসেবে গণ্য। বাংলাদেশেও কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শালুক নিয়ে গবেষণা চলছে। স্থানীয়ভাবে পুকুর বা খালে সমন্বিত চাষ (integrated farming) করলে কৃষকের বাড়তি আয় ও পুষ্টির উৎস হতে পারে।

করণীয়

  • স্থানীয় জাত সংরক্ষণ ও গবেষণা জোরদার করা
  • কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে শালুক চাষে প্রণোদনা দেওয়া
  • জলাভূমি রক্ষা ও পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রচলন
  • জনসচেতনতা বৃদ্ধি

শালুক ও ঢেপকে শুধু “গরীবের খাবার” হিসেবে দেখা যাবে না। এটি বাংলার কৃষি-ঐতিহ্যের অংশ এবং ভবিষ্যতের খাদ্যনিরাপত্তার সম্ভাবনাময় সম্পদ। এখনই উদ্যোগ না নিলে আমরা অচিরেই হারিয়ে ফেলব এই প্রাকৃতিক পুষ্টির ভাণ্ডার।

লেখক:
মোহাম্মদ লিয়াকত হোসেন জনী
প্রভাষক ও বিভাগীয় প্রধান
অর্থনীতি বিভাগ, পাঁচপোটল ডিগ্রি কলেজ, ধনবাড়ি, টাঙ্গাইল

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়