শিরোনাম
◈ টেস্ট ক্রিকে‌টে পেস বো‌লিং‌য়ে হাসান মাহমুদের নতুন অধ‌্যা‌য়ের সূচনা ◈ নেপালে আবারও আকস্মিক বন্যায় ৩৫ বাড়িঘর-সেতু বিধ্বস্ত, ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র: নিরাপদে সরছেন বাসিন্দারা ◈ সৌদি আরবে হুতি হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত, আইসিইউতে ৪ জন; মরদেহ আনা হবে রাষ্ট্রীয় খরচে ◈ জেদ্দা বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক, ঢাকাগামী বিমানের যাত্রীদের বোর্ডিং শুরু ◈ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাহফুজুল হায়দারের মরদেহ ভারত থেকে হস্তান্তর ◈ ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ: শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের আটক নয়, স্বাভাবিক রাখতে হবে মেট্রো-রেল ও ইন্টারনেট পরিষেবা ◈ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালনে নতুন পরিপত্র জারি, ৭ নভেম্বর সরকারি ছুটি ঘোষণা ◈ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেঞ্চুরি, ইতিহাস গড়লেন বাংলা‌দে‌শের সোবহানা ◈ হুথিদের হামলায় বিপর্যস্ত রিয়াদ বিমানবন্দর, ঢাকা থেকে রিয়াদগামী ৫ ফ্লাইট বাতিল ◈ মোহাম্মদপুরে অটোরিকশা চালকদের অবরোধ, বন্ধ বসিলা-গাবতলীমুখী সড়ক

প্রকাশিত : ৩০ আগস্ট, ২০২৫, ০৩:৫৯ দুপুর
আপডেট : ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার গরীবের পুষ্টির সম্ভার শালুক ও ঢেপ

লিয়াকত হোসেন জনী, মধুপুর, টাঙ্গাইল : বাংলার জলাভূমি—পুকুর, খাল, বিল ও ঝিলে একসময় প্রচুর জন্মাতো শালুক ও ঢেপ। বিশেষ করে দরিদ্র মানুষের খাদ্যতালিকায় এটি ছিল সহজলভ্য পুষ্টির উৎস। দুপুরে স্কুল থেকে ফিরে কৃষক পরিবারের সন্তানরা ভাতের সঙ্গে খেত সেদ্ধ ঢেপ বা শালুক। প্রাকৃতিক এই খাদ্য একসময় ছিল গরীব মানুষের জীবনধারার অংশ। অথচ আজ তা প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে।

শালুক ও ঢেপের পরিচয়

শালুক হলো জলজ উদ্ভিদের কন্দ, যা খেতে নরম ও মিষ্টি স্বাদের। বৈজ্ঞানিক নাম Nymphaea nouchali, যা সাধারণভাবে Blue Water Lily নামে পরিচিত। এটি পানির নিচে কাদায় জন্মে এবং আলুর মতো খাওয়া যায়। ঢেপ আসলে শালুকের অপরিণত কন্দ বা শিকড়ের আগা, যা তুলনামূলকভাবে ছোট, সাদা ও নরম। উভয়ই পুকুর, খাল, বিল ও ঝিলে জন্মে।

পুষ্টিগুণ

Advertisement

প্রতি ১০০ গ্রাম শালুকে প্রায় ৯৭ কিলোক্যালরি শক্তি রয়েছে। এতে শর্করা, আঁশ, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামসহ ভিটামিন C ও B কমপ্লেক্স পাওয়া যায়। শিশুখাদ্য হিসেবে ঢেপ বিশেষভাবে উপযোগী। শালুকের কিছু প্রজাতির পাতা, বীজ ও ফুলও খাওয়ার যোগ্য এবং আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এছাড়া ঢেপ দিয়ে খই, লাড্ডু তৈরি হয়।

সংকটের কারণ

  • প্রাকৃতিক জলাশয়ের দ্রুত হ্রাস
  • কৃষিজমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক ও কীটনাশক ব্যবহার
  • বাণিজ্যিক মাছচাষের বিস্তার
  • জলাভূমি ভরাট ও নগরায়ন

পরিবেশ গবেষণা অনুযায়ী, গত তিন দশকে বাংলাদেশের প্রায় ৫০% প্রাকৃতিক জলাশয় ভরাট বা ধ্বংস হয়েছে। এর ফলে শুধু শালুক নয়, আরও বহু জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণী হারিয়ে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের অনেকেই এখন আর শালুক বা ঢেপের নামই জানে না।

চাষাবাদ ও সংরক্ষণ

ভারত, চীন, থাইল্যান্ড ও জাপানে শালুক বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয় এবং সুপারফুড হিসেবে গণ্য। বাংলাদেশেও কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শালুক নিয়ে গবেষণা চলছে। স্থানীয়ভাবে পুকুর বা খালে সমন্বিত চাষ (integrated farming) করলে কৃষকের বাড়তি আয় ও পুষ্টির উৎস হতে পারে।

করণীয়

  • স্থানীয় জাত সংরক্ষণ ও গবেষণা জোরদার করা
  • কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে শালুক চাষে প্রণোদনা দেওয়া
  • জলাভূমি রক্ষা ও পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রচলন
  • জনসচেতনতা বৃদ্ধি

শালুক ও ঢেপকে শুধু “গরীবের খাবার” হিসেবে দেখা যাবে না। এটি বাংলার কৃষি-ঐতিহ্যের অংশ এবং ভবিষ্যতের খাদ্যনিরাপত্তার সম্ভাবনাময় সম্পদ। এখনই উদ্যোগ না নিলে আমরা অচিরেই হারিয়ে ফেলব এই প্রাকৃতিক পুষ্টির ভাণ্ডার।

লেখক:
মোহাম্মদ লিয়াকত হোসেন জনী
প্রভাষক ও বিভাগীয় প্রধান
অর্থনীতি বিভাগ, পাঁচপোটল ডিগ্রি কলেজ, ধনবাড়ি, টাঙ্গাইল

  • সর্বশেষ