শিরোনাম
◈ হামের সংক্রমণ অব্যাহত, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ শিশুর মৃত্যু ◈ করদাতাদের সতর্ক করল এনবিআর, জারি ৪ নির্দেশনা ◈ ব্যবসায়ীর অ.ণ্ডকোষ চেপে চেক-স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায়, সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরালের পর অভিযুক্ত গ্রেপ্তার ◈ অসহায় মানুষের সহায়তার জন্য ৮ কোটি টাকা বিতরণে খরচ ৫৩ কোটি! ◈ জনগণের আস্থা অটুট রেখেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে: তারেক রহমান ◈ প্রথমবার আয়কর রিটার্নে মাত্র ১ হাজার টাকা, নতুন করদাতাদের জন্য এনবিআরের বিশেষ সুবিধা ◈ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক নাসির উদ্দিন সারোয়ারকে প্রত্যাহার ◈ আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম ও পিয়াসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় জিডি ◈ সরকারি ব্যানার-ফেস্টুনের নতুন নির্দেশনা: প্রধানমন্ত্রীর ছবি নিষিদ্ধ, প্রাধান্য পাবে অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ◈ চীন থেকে বৈধ পথে টাকা পাঠাতে জটিলতা, বাধ্য হয়ে হুন্ডিতে ঝুঁকছেন বাংলাদেশিরা

প্রকাশিত : ০৯ ডিসেম্বর, ২০২৪, ০১:২১ দুপুর
আপডেট : ০২ এপ্রিল, ২০২৫, ০৭:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংস, নতুন মিনার নির্মাণের উদ্যোগ

রিয়াদ ইসলাম, ঈশ্বরদী (পাবনা) থেকে: বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন, গৌরবময় বিজয়ের মাসে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্মৃতিতে সমৃদ্ধ পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশীর ঐতিহাসিক শহীদ মিনারটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি ধারণ করে নির্মিত এই শহীদ মিনারটি শুধুই একটি স্থাপনা ছিল না, এটি পাকশী রেলওয়ে শহর এবং আশপাশের গ্রামের মানুষের আবেগ, ভালোবাসা ও সংগ্রামের চিহ্ন হিসেবে পরিচিত ছিল।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রোববার দুপুরে তিনটি গাছের পাতার আদলে তৈরি শহীদ মিনারের বেদীগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে মাটি কাটার কাজ চলছে। পাশে ইট ও বালু স্তুপ করে রাখা হয়েছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরনো শহীদ মিনারটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। তাই এটি ভেঙে আধুনিক মানের নতুন একটি শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এদিকে এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশিত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এবং শহীদ মিনারটির সাথে সম্পর্কিত ব্যক্তিরা তাদের অসন্তোষ জানিয়ে বিভিন্ন পোস্ট শেয়ার করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শহীদ মিনারটি তাঁদের আবেগ এবং ঐতিহ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি ভেঙে ফেলা তাঁদের ইতিহাসের প্রতি অসম্মান। নতুন শহীদ মিনার নির্মাণ করলেও পুরনো মিনারটির ঐতিহাসিক মূল্য ও আবেগ ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে না। বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী পাকশী কমিটির সহসভাপতি রঞ্জু ভৌমিক বলেন, ‘পাকশী মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনার স্থান। এখানকার প্রতিটি ইট আমাদের সংগ্রামের কথা বলে। শহীদ মিনার ভেঙে ফেলা আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতি অবমাননা। পুরনো মিনার সংরক্ষণ করে পাশেই নতুন মিনার নির্মাণ করা উচিত ছিল।’

পাবনা জেলা জাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এটি ভাঙা মানে আমাদের ইতিহাসের প্রতি অসম্মান।’ বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ার রহমান বলেন, ‘শহীদ মিনারটি আমাদের হৃদয়ের অংশ। নতুন মিনার নির্মাণ করলেও সেই আবেগ এবং স্মৃতিকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।’ মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এই শহীদ মিনারে আমরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম একাত্তরের ও ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করেছি।

এটি আমাদের সংগ্রামের প্রেরণাস্থল ছিল। এটি ভেঙে ফেলা মানে আমাদের ইতিহাসকে অপমান করা।’ মুক্তিযুদ্ধকালীন কোম্পানি কমান্ডার অ্যাডভোকেট কাজী সদরুল হক সুধা বলেন, ‘কষ্ট লাগছে, এই শহীদ মিনারটি আমাদের জন্য শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি আমাদের আত্মত্যাগের স্মারক। এর ভাঙন আমাদের গৌরবময় অধ্যায়ের প্রতি উপেক্ষার শামিল’।

পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘আমরা শহীদদের স্মৃতিকে আরও সম্মানের সঙ্গে ধরে রাখার জন্যই এই উদ্যোগ নিয়েছি। পুরনো শহীদ মিনারটি সংস্কার করার মতো অবস্থায় ছিল না, তাই এটি ভেঙে নতুন নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে।’ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পরপরই ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের আমতলা মাঠে শহীদ মিনারটি নির্মাণ করা হয়। তখন থেকেই এ শহীদ মিনারটি এলাকার মানুষের জন্য শ্রদ্ধা ও চেতনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস এবং একুশে ফেব্রুয়ারিতে এখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। পাশাপাশি, সামাজিক, রাজনৈতিক এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ এলাকাবাসীও ঐতিহাসিক এসব দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এই শহীদ মিনারটি আজও এ অঞ্চলের মানুষের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিদ্যমান ছিলো।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়