শিরোনাম
◈ মার্কিন পাইলটের মৃত্যু, ইউনাইটেড হাসপাতালের অবহেলাকে দায়ী করেছেন বোন  ◈ ২ ফেব্রুয়ারি দেশের প্রথম পাতাল মেট্রো রেলের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী  ◈ দৈনিক সমকাল পত্রিকার বিরুদ্ধে প্রেস কাউন্সিলে ঢাকা ওয়াসার মামলা ◈ সরকার ইসলামের বিরুদ্ধে কিছু করেনি, করবেও না: শিক্ষামন্ত্রী ◈ পেশোয়ারের মসজিদে শক্তিশালী বিস্ফোরণে নিহত ২৮, আহত ১৫০ ◈ জমজমের পানি বিক্রি বন্ধের নির্দেশ ভোক্তা অধিদপ্তরের ◈ ডান্ডাবেড়ি পরানো নিয়ে নীতিমালা প্রণয়নে হাইকোর্টের রুল ◈ চৌগাছার সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার কারাদণ্ড ◈ অনির্বাচিত লোক দিয়ে কখনো দেশের উন্নতি হয় না:  প্রধানমন্ত্রী   ◈ ১১ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : ৩০ নভেম্বর, ২০২২, ০৮:০৮ রাত
আপডেট : ৩০ নভেম্বর, ২০২২, ০৮:০৮ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হাসপাতালগুলোকে সাধারণ বর্জ্য হতে

চিকিৎসা বর্জ্যকে আলাদা করে হস্তান্তর করতে হবে: মেয়র তাপস

ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস

সুজিৎ নন্দী: ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ চিকিৎসা সংক্রান্ত সকল প্রতিষ্ঠানে সৃষ্ট সাধারণ বর্জ্য হতে চিকিৎসা বর্জ্যকে আলাদা করে সিটি করপোরেশন নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের নিকট হস্তান্তর করতে হবে।

শেখ তাপস বলেন, চিকিৎসা বর্জ্য ধ্বংসে আমাদের প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে এখন পর্যন্ত হাসপাতালগুলো যথা নিয়মে সাধারণ বর্জ্য হতে চিকিৎসা বর্জ্যকে পৃথকীকরণ করছে না। এটা স্ব স্ব হাসপাতাল, ক্লিনিককে পৃথক করতে হবে। কিন্তু তারা সাধারণ বর্জের সাথেই চিকিৎসা বর্জ্য মিলিয়ে এগুলোকে ফেলে দিচ্ছি বা দিয়ে দিচ্ছে।
 
তিনি আরো বলেন, সকল হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ইনস্টিটিউটসহ চিকিৎসার কাজে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন থেকেই সাধারণ বর্জ্য হতে চিকিৎসা বর্জ্যকে পৃথকীকরণের কার্যক্রম শুরু করতে হবে। যে সকল প্রতিষ্ঠানকে চিকিৎসা বর্জ্য সংগ্রহের জন্য আমরা নিবন্ধন দেবো, তাদের কাছে এটা হস্তান্তর করতে হবে। তারা সরাসরি আমাদের মাতুয়াইল ভাগাড়ে ইনসিনারেশন প্লান্টে নিয়ে আসলে আমরা পরিপূর্ণভাবেই চিকিৎসা বর্জ্য থেকে ঢাকাবাসিকে মুক্ত করতে পারব।

বুধবার খিলগাঁও তালতলা কবরস্থান ও মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে মেয়র এ কথা বলেন।

মেয়র আরো বলেন, চিকিৎসা বর্জ্য সংগ্রহ ও ধ্বংস করার প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে একটি ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল। ২০০৬ সালে একটি এনজিও প্রতিষ্ঠানের সাথে এ নিয়ে একটি চুক্তি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই চুক্তির মেয়াদও বৃদ্ধি করা হয়নি। আমরা কিন্তু আমাদের কেন্দ্রীয় মাতুয়াইল ভাগাড়ে জায়গা দিয়েছি। সেখানে একটি ইনসিনারেশন, অটোক্লেভ করা হয়েছে। যাতে করে চিকিৎসা বর্জ্যগুলো আলাদা আলাদাভাবে নেওয়া যায় এবং যেসব বর্জ্য ধ্বংসযোগ্য বা ধ্বংস করা অত্যাবশ্যক সেগুলোকে ধ্বংস করা যায়।

তিনি বলেন, পরবর্তীতে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালাও করা হয়। সেই নীতিমালা অবলম্বন করে আমরা এখন প্রত্যেকটি অঞ্চলে আলাদা প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন করছি। যারা নীতিমালার আলোকে সকল কিছু পরিপালন করে সুষ্ঠুভাবে এগুলো সংরক্ষণ করবে এবং আমাদের মাতুইল ভাগাড়ে নিয়ে সেগুলো ধ্বংস করবে।

শেখ তাপস বলেন, আজকে আমরা এখানে একটি কবরস্থান ও মসজিদের উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করলাম। এই কবরস্থানের জমি দীর্ঘদিন ধরে দখল অবস্থায় ছিল। জমি নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা ছিল। আমরা পুরোটা দখলমুক্ত করেছি। পরিপূর্ণ জায়গা নিয়ে আমরা একটি সুন্দর কবরস্থান করছি। তার সাথে সাথে কবরস্থানের জন্য সার্বিক যে বিষয়গুলো থাকে একটি মসজিদ, একটি গোসলখানা নির্মাণ, জানাজা যাতে পড়াতে পারে।

তিনি আরো বলেন, সেজন্য সকল অবকাঠামো নিয়ে এলাকার জনগণসহ ঢাকাবাসীর জন্য আমরা আরেকটি নতুন কবরস্থান এবং তার সাথে আনুষঙ্গিক অবকাঠামো উন্নয়নের শুভ সূচনা আমরা করতে পারছি। এখানে ৩৪’শ কবর দেওয়া যাবে। ঢাকাবাসীর কবরের জন্য যে চাহিদা রয়েছে, এই এলাকায় সেই চাহিদা মেটাতে পারবো বলে আমরা মনে করি।

ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, পরিবেশ আইনেই এই বিধানটি সুস্পষ্টভাবে বলা আছে। আসলে অতীতে কিন্তু এটা নিয়ে আমরা কেউ ভাবি নাই। এখন আমরা প্রতিটি বর্জ্য এবং বর্জ্যের উৎসস্থল কোথায় সেটা কিন্তু আমরা চিহ্নিত করছি। আমরা যেটা বলি, এট সোর্স বা উৎসে যদি এটা পৃথক না করা হয় তাহলে সিটি করপোরেশনের খুব একটা বেশি কিছু করার নেই। যেমন আমাদের এলাকায় মুগদা হাসপাতাল আছে। সেখানে আমরা একটা প্রটোকল চালু করেছি। তারা এটা কিভাবে ডিসপোজাল করবে সেজন্য সেখানে আমাদের একটা কমিটিও আছে।

কবরস্থান ও মসজিদের উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস কবরস্থান প্রাঙ্গণে একটি কৃষ্ণচূড়া ও ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী একটি রাধাচূড়া গাছের চারা রোপণ করেন।

এর আগে মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস টিকাটুলি জামে মসজিদ পুনঃনির্মাণ, বাংলাদেশ মাঠ ভবন ও ধানমন্ডি নগর সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং এলিফ্যান্ট রোডে নবনির্মিত গণশৌচাগার উদ্বোধন করেন।

এসব অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী ছাড়াও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব আকরামুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

এসএন/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়