শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৭ আগস্ট, ২০২২, ১০:০২ রাত
আপডেট : ১৭ আগস্ট, ২০২২, ১০:০২ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আইনের কঠোর প্রয়োগ না হলে দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে: মেয়র তাপস 

শেখ ফজলে নূর তাপস

সুজিৎ নন্দী: ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, এটি একটি ওয়াক্ফ এস্টেট। এটির কোনও ট্রেড লাইসেন্স নেই, এই স্থাপনার কোনও বৈধতা নেই। সেখানে রেঁস্তোরা করেছে, কারখানা করেছে। কিন্তু আমরা বাণিজ্য অনুমতি না দেওয়া সত্ত্বেও সেখানে কিভাবে গ্যাসের সংযোগ পেল, বিদ্যুতের সংযোগ পেল? এ বিষয়গুলোতে আসলে সকল সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। 

তিনি বলেন, এখানে আইনকে কঠোরভাবে পরিপালন করতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে এরকম দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে।

মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, আমরা কিন্তু সেই দীর্ঘ ২০১৮ সালের পর থেকে এখানে কোনও ট্রেড লাইসেন্স দিচ্ছিনা। তারপরেও আপনারা দেখেছেন, এখানে অবৈধভাবে, বেআইনিভাবে তারা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এখানে কারখানা করেছে, রেস্তোরাঁ করেছে। এগুলো কিন্তু আসলে সবই অনিয়মতান্ত্রিক, বেআইনি। এরই মাঝে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্তের আলোকে আমরা চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে  ১৯২৪টি রাসায়নিক গুদাম ও কারখানা চিহ্নিত করেছি এবং তা প্রেরণ করা হয়েছে। 

বুধবার লালবাগস্থ দেবীদাস ঘাট লেনে গত সোমবার সংগঠিত অগ্নিকাণ্ডের স্থান পরিদর্শন শেষে এ কথা বলেন।

মেয়র তাপস বলেন, রাসায়নিক কারখানা ও গুদামঘরগুলোর স্থানান্তর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। শ্যামপুর শিল্পাঞ্চলে ৫শ’টির মত গুদামঘর, কারখানা স্থানান্তরের প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে এবং সেটা এ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে বলে আমরা জানতে পেরেছি। আমাদেরকে সেভাবেই জানানো হয়েছে। এগুলোর সম্পূর্ণরূপে স্থানান্তর প্রক্রিয়া না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের দুর্ঘটনা থেকে আমরা মুক্তি পাব না। 

তিনি বলেন, দুঃখজনকভাবে ঘুমন্ত অবস্থায় ৬ জন মানুষ পুড়ে মারা গেছে। আসলে সকলের বোধোদয় জাগ্রত না হলে, অবৈধভাবে এই কার্যক্রম চলমান থাকলে এ ধরনের দুর্ঘটনা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব হবে না। সেজন্য এসব বেআইনি ও অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

মেয়র বলেন, আমাদের তরফ থেকে আমরা বাণিজ্য অনুমতি বন্ধ করে রেখেছি। অন্য সংস্থারগুলোর তো এগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখা উচিত যে, তারা বাণিজ্য অনুমতি ছাড়া কিভাবে এখানে গ্যাস সংযোগ পাচ্ছে ? আমরা জানি যে, ঢাকা শহরে বিভিন্নভাবে অবৈধ উপায়ে গ্যাস সংযোগ পেয়ে যায়। এটাও হয়তোবা খতিয়ে দেখলে দেখা যাবে যে, অবৈধভাবে এই সংযোগ নিয়েছে। এগুলো যদি আরও গভীরভাবে মাঠ পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করা না হয়, কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয় তাহলে এ রকম দুঃখজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে। প্রত্যেক বছরে কিন্তু দেখছি এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। 

এরপরে মেয়র আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলে চলমান পুনঃখনন কার্যক্রম ও নিউ মার্কেট সংলগ্ন বনলতা কাঁচাবাজার পরিদর্শন করেন। 

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ, সচিব আকরামুজ্জামান, প্রধান প্রকৌশলী সালেহ আহম্মেদ, পরিবহন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক হায়দর আলী, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন। 

  • সর্বশেষ