শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৯ জানুয়ারী, ২০২২, ০৫:০৩ সকাল
আপডেট : ১৯ জানুয়ারী, ২০২২, ০৫:০৩ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ঢাবিতে ছাত্রলীগকর্মীকে আটকের পর জানা গেল, পিস্তলটি খেলনা

নিউজ ডেস্ক: দোকানদারকে পিস্তল দিয়ে ভয় দেখিয়েছেন। এরপর সেই দোকানীর কাছ থেকে চাঁদাও নিয়েছেন। এই অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযান চালায় হল প্রশাসন। ওই ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করা হয় এবং তার কক্ষ থেকে পিস্তল, হকি স্টিক ও রড উদ্ধার করা হয়। কিন্তু থানায় নেওয়ার পর জানা গেল, পিস্তলটি আসলে খেলনা।

এই ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্যসেন হলে। আটক ওই শিক্ষার্থীর নাম আল আমিন খান ওরফে রিজন। ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগে ভর্তি হলেও প্রথম বর্ষ পার হতে পারেননি তিনি। ছাত্রলীগের কোনো পদে না থাকলেও তিনি সূর্যসেন হল শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ পদপ্রত্যাশী পরিচয়ে নানা অপকর্ম করে আসছিলেন।

ওই পিস্তল দেখিয়ে হলের সেলুনের মালিককে ভয় দেখানো ও চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠার পর আল আমিন খান কক্ষে অভিযান চালায় হল প্রশাসন। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ওই তাকে সূর্যসেন হলের ১০২ নম্বর কক্ষ থেকে আটক করা হয়।

সূর্যসেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ মকবুল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, আল আমিন খানের কক্ষ থেকে একটি পিস্তল, হকি স্টিক ও রড উদ্ধার করা হয়। আটকের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে প্রক্টরিয়াল টিমের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রক্টরিয়াল টিম তাঁকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করেছে। আল আমিনের বিষয়ে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশকে একটি লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, আটক আল আমিন খানকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে।

তবে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মওদূত হাওলাদার বলেন, জব্দ করা পিস্তলটি খেলনা। তাকে থানায় আটক রাখা হয়েছে। আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সূর্যসেন হলের সেলুনের মালিক মো. জুনায়েদকে হলের ১০২ নম্বর কক্ষে ডাকেন আল আমিন খান। মো. জুনায়েদ বলেন, “গত বৃহস্পতিবার আল আমিন খান আমাকে হলের ১০২ নম্বর কক্ষে ডাকেন। তিনি আমার কাছে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন। বলেন, ‘তুই তো ছাত্রলীগের অন্যদের টাকা দিস, আমাকে দিস না’। একপর্যায়ে তিনি একটি পিস্তল বের করেন। পিস্তল দেখে আমি ভয় পেয়ে যাই। আমার কাছে তখন কিছু টাকা ছিল। আমি তাঁকে তিন হাজার টাকা দিই। আল আমিন খান আমাকে বলেন, ‘যে তাঁকে আরও পাঁচ হাজার টাকা দিতে হবে এবং এখন থেকে ১৫ দিন পর পর তাঁকে টাকা দিতে হবে।’ এই টাকার কথা কাউকে জানালে আমাকে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দেন তিনি।”

প্রথম আলো

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়