প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সিজার করলেন আয়া-নার্স, নবজাতকের কপালে ৯ সেলাই

ফরিদপুর প্রতিনিধি : [২] ফরিদপুরে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গাইনি ডাক্তার ছাড়াই সিজার করতে গিয়ে নবজাতকের কপাল কেটে ফেলেছেন আয়া ও নার্স। কপালে ৯টি সেলাই নিয়ে শিশুটি এখন গুরুতর অসুস্থ। এই ঘটনায় ক্লিনিকের মালিক মো. জাকারিয়া মোল্লা পলাশ ও আয়া চায়না বেগমকে আটক করেছে পুলিশ।

[৩] এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর ভাই মো. আমির ফয়সাল বলেন, শনিবার সকাল ৮টার দিকে প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিপরীতে আল-মদিনা প্রাইভেট হাসপাতালে তার বোনকে ভর্তি করা হয়। কিন্তু গাইনি ডাক্তার আসার আগেই তার বোন রুপা বেগমকে আয়া ও নার্স মিলে সিজার করে। বাচ্চা বের করে আনার পর দেখা যায় তার কপালে ৯টি সেলাই ও বাচ্চাটি গুরুতর অসুস্থ।

[৪] তিনি বলেন, বিষয়টি তারা লুকানোর চেষ্টা করলেও প্রশাসনকে জানাই। পুলিশ এসে হাসপাতালের মালিক ও আয়াকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।

[৫] শনিবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে শহরের আল-মদিনা প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নারী রূপা বেগম রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ থানার উজানচর ইউনিয়নের মৈজদ্দিন মন্ডলপাড়া গ্রামের শফিক খানের স্ত্রী।

[৬] এ ব্যাপারে শিশুটির ফুফা আসলাম খান   বলেন, গরিব ও অসহায় মানুষের চিকিৎসার নামে এ ধরনের হয়রানি বন্ধ এবং অপরাধীদের শাস্তি চাই।

[৭] এ বিষয়ে ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুল আলম  বলেন, খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে আমি হাসপাতালটি পরিদর্শন করি। গাইনি ডাক্তার ছাড়াই গর্ভবতী মাকে সিজার করা ও বাচ্চাটির কপাল কেটে ফেলার অভিযোগে হাসপাতালের মালিক পলাশ ও কর্মরত আয়া চায়নাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তিনি আরও বলেন, হাসপাতালটির বিভিন্ন অনিয়মসহ এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

[৮] এ বিষয়ে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. সিদ্দিকুর রহমান , খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। হাসপাতালটির মালিক ও নার্সকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিভিন্ন অনিয়ম খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সঠিক তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

[৯] এ ঘটনায় ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. সিদ্দিকুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুমন কর, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের জেলার সভাপতি জলিল মিয়া প্রমূখ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সম্পাদনা: শান্ত মজুমদার।

 

 

সর্বাধিক পঠিত