শিরোনাম

প্রকাশিত : ২০ ডিসেম্বর, ২০২১, ০৮:৪০ রাত
আপডেট : ২০ ডিসেম্বর, ২০২১, ০৮:৪০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] চৌগাছায় গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে এনজিও লাপাত্তা

বাবুল আক্তার: [২] যশোরের চৌগাছার গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে ভুল বুঝিয়ে দশ বছরে দ্বিগুণ লাভ দেওয়ার নামে প্রতারণা করে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি ভূয়া এনজিও। প্রথমে  পিডো পরে  আড়পাড়া সমাজ কল্যান সংস্থা নামে ভূয়া এনজিওর ফাঁদে পড়েছে উপজেলার জগুদশপুর ও ফুলসারা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের প্রায় এক হাজার গ্রাহক।

[৩]  গত রোববার ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক গ্রাহক চৌগাছা প্রেসক্লাবের সহযোগিতা কামনা করেন। এনজিও দুটির ডিপিএস ও সঞ্চয় জমাদানের বই দেখিয়ে সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

[৪] উপজেলা সমাজ কল্যাণ অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা যায় “পিডো” বা “আড়পাড়া সমাজ কল্যান সংস্থা” নামে কোনো সংস্থার অস্তিত্ব নেই। অনুমোদন ছাড়াই তারা চৌগাছার এ অঞ্চলে মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আতœসাৎ করেছে।

[৫] সরেজমিনে গেলে পিডো’র পক্ষে ওই অঞ্চলের প্রথম মাঠ কর্মী পারভিনা বললেন.“পিডো’র সরকারি অনুমোদন ছিল। আমি রূপদিয়াতে ওই সংস্থার ৫দিনের ট্রেনিং নিয়েছি। যশোর সদরের রূপদিয়া বা সমবায় মার্কেটেও এই সংস্থার কোনো অফিস খুজে পাওয়া যায়নি।

[৬] জানা যায়, ২০১৯ সালে পল্লী অর্থনৈতিক উন্নয়ন সংস্থা পিডো উপজেলার দুটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। সে সময় ফুলসারা ইউনিয়নের সলুয়া বাজারেও তাদের অফিস ছিল। পরে তারা আড়পাড়া বাজারে কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকে। বছর পার না হতেই সেই নাম পরিবর্তন হয়ে “আড়পাড়া সমাজ কল্যান সংস্থা” নাম নিয়ে কাজ শুরু করে।  এনজিও টি দুটি নামে প্রায় ৩বছর তাদের সঞ্চয় ও ডিপিএস কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

[৭] অফিসের সাইনবোর্ড এবং স্থানীয়দের সংগ্রহে থাকা সংস্থা দুটির অর্থ সংগ্রহের রশিদ ও টাকা জমা নেওয়ার বইতে পিডো’র ঠিকানা যশোর, রূপদিয়া,সদর যশোর এবং স্থাপিত ১৯৯৮ ইং লেখা আছে। এবং আড়পাড়া সমাজ কল্যান সংস্থার সাইনবোর্ডে অফিসের ঠিকানা যশোর সমবায় মার্কেট এবং নির্বাহী পরিচালক হিসেবে নাসিমা খাতুন তিথি’র নাম লিখা আছে।

[৮] ভূক্তভোগীরা জানিয়েছেন, পারভিনা এবং খাদিজা চলে যাওয়ার পরে পারভিনার চাচাত ভাই আড়কান্দি গ্রামের কাশেমের ছেলে সোহাগ এবং কালিগঞ্জ থানার গরীনাথপুরের স্বপ্নারানী সংস্থার টাকা সংগ্রহ করতেন। সোহাগের কাছে গিয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান যশোরের আবু সাঈদ নামে একজন “আড়পাড়া সমাজ কল্যান সংস্থা”র এমডি। এবং তার স্ত্রী নাসিমা খাতুন তিথি নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন এখন শুনছি তাদের সরকারি কোনো অনুমোদন নেই এবং যশোরের কোথাও তাদের কোনো অফিস নেই।

[৯] এ বিষয়ে চৌগাছা উপজেলা সমাজ কল্যান কর্মকর্তা মেহেদি হাসান বলেন, আড়পাড়া সমাজ কল্যান সংস্থা নামে কোনো সংস্থার নাম অফিসের তালিকায় নেই।

 

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়