শিরোনাম
◈ নরসিংদীর ডিকশনারি থেকে চাঁদাবাজি শব্দটি মুছে ফেলতে চাই: চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে বদলি ◈ ইরান এতগুলো দেশে প্রতিশোধমূলক হামলা চালাবে ভাবিনি, আমরা হতবাক: ট্রাম্প ◈ যেসব এলাকায় বুধ ও বৃহস্পতিবার খোলা থাকবে ব্যাংক ◈ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ইউএনও আলাউদ্দিন ওএসডি ◈ ভিয়েনায় বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য বৈঠক, নিরাপত্তা ও পুলিশ সংস্কারে সহযোগিতার আলোচনা ◈ জোর করে শক দিতে বাধ্য করা হতো: অনলাইন প্রতারণার আখড়া কম্বোডিয়ায় নির্যাতনের শিকার কর্মীদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ◈ ঈদে চন্দ্রা টার্মিনালে ঘরমুখী মানুষের চাপ, ১০ কিমি দীর্ঘ যানজট ◈ শিলাবৃষ্টি ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ◈ না ফেরার দেশে অভিনেতা শামস সুমন ◈ ইরান-ইসরাইল-মার্কিন যুদ্ধে ভারতের ওপর ৫০ বিলিয়ন ডলারের ধাক্কা

প্রকাশিত : ০২ ডিসেম্বর, ২০২১, ০১:৪৭ রাত
আপডেট : ০২ ডিসেম্বর, ২০২১, ০১:৪৭ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন: আন্তর্জাতিক মানের একটা ইনস্টিটিউট তৈরি করুন

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন
কলকাতার ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নীনা গুপ্ত ইয়ং গণিতবিদ হিসেবে ইতালির DST-ICTP-IMU Ramanujan পুরস্কার পেয়েছেন। ভারতের কেবল কলকাতায় এই ইনস্টিটিউট ছাড়াও আছে বোস সেন্টার ফর বেসিক সায়েন্স, আছে ইন্ডিয়ান এসোসিয়েশন ফর কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট ফর কেমিক্যাল বায়োলজিসহ আরও বেশ কয়েকটি যার প্রত্যেকটি ওয়ার্ল্ড ক্লাস। সেখান থেকে বিশ্বমানের পিএইচডি করে আমেরিকার সেরা সেরা প্রতিষ্ঠানে পোস্ট-ডক করতে যাচ্ছে। অধ্যাপক নীনা গুপ্তও ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউট থেকে পিএইচডি করেছেন। কেমন পিএইচডি বুঝতে পারছেন? এই পিএইচডি দিয়ে ইন্ডিয়ান একাডেমি অফ সায়েন্স থেকেও পুরস্কার পেয়েছেন।

বাংলাদেশ থেকে এমন একটাও পিএইচডিধারীর নাম বলুন তো যে দেশে পিএইচডি করে আমেরিকা বা ইউরোপের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্ট-ডক পেয়েছে বা বিদেশ থেকে কোনো বড় অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে। দেশে অধিকাংশ পিএইচডিই হয় বিপদে পড়ে। কোথাও যেতে পারছে না বা একটা পিএইচডির কারণে নামের আগে একটা ড. লাগাতে পারছে না তাই ছন্দাইনন্দাই করে একটা পিএইচডি। এমফিল ডিগ্রিও কারা করে? এটা করলে প্রমোশনে সুবিধা পাবে। অর্থাৎ গবেষণাটা প্রায়োরিটি নয়। হবে না কেন? পিএইচডি প্রোগ্রামে কোনো ভালো মানের ফেলোশিপ আছে? একটা পিএইচডি ফেলোকে কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা মাসে দেওয়া উচিত। তাছাড়া ক্যাম্পাসে একটা থাকার জায়গাও দেওয়া উচিত। আমরা দেশে পিএইচডি তৈরির পরিবর্তে দেশের মানুষের ট্যাক্সের কোটি কোটি টাকা দিয়ে প্রাইম মিনিস্টার ফেলোশিপ নামে বিদেশে ঝাঁকে ঝাঁকে পিএইচডি করতে পাঠাচ্ছি। অর্থাৎ আমরা দেশে একটা শক্তিশালী পিএইচডি প্রোগ্রাম তৈরির চেষ্টাই করছি না।

এ জন্যই বলে যাচ্ছি দেশে অতি শীঘ্র একটা আন্তর্জাতিক মানের ইনস্টিটিউট তৈরি করুন। সেখানে বিশ্বমানের গবেষক নিয়োগ দিয়ে বিশ^মানের বেতন ও গবেষণার সুযোগ দিয়ে শক্তিশালী পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু করুন। যেই টাকা দিয়ে প্রতি বছর প্রাইম মিনিস্টার ফেলোশিপ দিচ্ছেন সেটা বন্ধ করে দেশে বিনোয়োগ করুন। কলকাতার মানুষ পারলে বাংলাদেশের মানুষও পারবে। দরকার শুধু সঠিক পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনা আর বিনিয়োগ। আমাদের যে ক’টা ইনস্টিটিউট আছে সেগুলো দুষ্টু আমলাতন্ত্র আর অধিক দুষ্টু রাজনীতির কবলে পড়ে একেকটা ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। সে জন্যই বলি বিদ্যমান সিস্টেমে চলবে না। দেশি-বিদেশি গবেষক আনুন, বিশ্বমানের পরিবেশ ও বেতন দিন। দেখবেন দেশ বদলে যাবে। লেখক : শিক্ষক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

 

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়