শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৯ নভেম্বর, ২০২১, ১২:০১ দুপুর
আপডেট : ২৯ নভেম্বর, ২০২১, ১২:১২ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দীপক চৌধুরী: শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সর্বত্র কঠোর ও নিবিড় নজরদারি জরুরি

দীপক চৌধুরী: আমরা এক ভয়ংকর বিপদের মধ্যে আছি। এদেশে তো সুযোগসন্ধানীর অভাব নেই। তারা শুধু অপেক্ষায় থাকে। বাসে অর্ধেক ভাড়া বা হাফ পাস চালুর দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে বিভিন্ন স্কুল- কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদের এ দাবি যৌক্তিক। অথচ এটি মানতে এতো দেরি হওয়ার কী কারণ থাকতে পারে তা বোধগম্য নয়। আমরা মনে করি, কী করা উচিৎ বা কী করা হলে সমস্যার সমাধান হবে তা ভাবা জরুরি হয়ে পড়েছে। অভিভাবক, পুলিশ ও শিক্ষকদের মধ্যে নানারকম আশঙ্কা ভিড় করছে। চোখের সামনে নানারকম চ্যালেঞ্জ দেখছে পুলিশ। এ সমস্যা শেষ না হওয়ায় শিশু–কিশোরদের আন্দোলন নিয়ে অভিভাবকদের শঙ্কা বাড়ছে প্রতিদিন। ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকে অন্য খাতে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। সেই আশঙ্কা এবারেও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কারণ, তখন দেখেছি কীভাবে রাতারাতি এটিকে ভয়ংকর পথে ধাবিত করানো হয়েছিল। বাসে অর্ধেক ভাড়া (হাফ পাস) চালু ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিশু-কিশোরদের আন্দোলনের সুযোগ অন্য কেউ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা । ১০ দিন ধরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ সমাবেশ করছে। এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কিছুটা কঠিন। কারণ, এখানে কোনো ‘লিডার’ নেই।

আন্দোলনকারীরা সবাই ‘লিডার’। ফলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা বেকায়দায়। তাদেরও এই বয়সী ছেলেমেয়ে আছে, তারাও এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরই ছাত্রছাত্রী ছিল এক সময়। অন্যান্য আন্দোলনে একাধিক নেতা থাকে। তাদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়ে থাকে। কিন্তু শিশুকিশোর ছাত্রছাত্রীদেরবেলায় এটা সম্ভব নয়। শিশু-কিশোরদের এই আন্দোলনের কোনো নেতা নেই, তাদের আন্দোলনও পরিকল্পিত নয়। তা ছাড়া বয়সের কারণে অপরিণত হওয়ায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও খুব একটা কাজ হচ্ছে না। এরমধ্যে আমরা হাস্যকর কথা শুনলাম যে, ‘৮০ শতাংশ পরিবহনমালিক গরিব’, এমন দাবি করেছেন পরিবহন মালিক সমিতির নেতা এনায়েত উল্লাহ। অন্যদিকে আন্দোলকারী শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ বলেছে, ‘হাফ পাস না দিলে, দেখব গাড়ি কেমনে চলে’ । কী ভয়বাহ অবস্থা। মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছেই। রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় গত রোববার দুপুরে রাপা প্লাজার সামনে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে সন্দেহভাজন এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তার নাম হাফিজুর রহমান। তার কাছ থেকে নকল টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ বলেছে, তাঁর পকেটে জাল টাকা ও ঘুমের ওষুধ পাওয়া গেছে। বিষয়টি কোনদিকে যাচ্ছে তা অনেককেই ভাবিয়ে তুলছে।

সুুন্দর এবং যৌক্তিক কথা বলেছেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘আমি যখন ছাত্র ছিলাম তখন আমি নিজেও বাসে হাফ ভাড়া দিয়ে চলেছি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় শহর থেকে বাসে যেতাম হাফ ভাড়া দিয়ে। তখন সরকার বাস মালিকদের কোনো প্রণোদনা দিতো না। বাস মালিকরাও প্রণোদনা দাবি করে নাই। তারা বিনা প্রণোদনাতেই ছাত্রদেরকে হাফ ভাড়া দেয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। আজকে কেন প্রণোদনা লাগবে সেটি আমার ব্যক্তিগত জিজ্ঞাসা। একটি বাসে ৪০ থেকে ৫০জন যাত্রী থাকে সেখানে দু-তিন-পাঁচজন ছাত্র থাকে এবং এতে বাস মালিকদের কি অসুবিধা হবে, সেটি আমার ব্যক্তিগত প্রশ্ন।’

গুণী ও মেধাবী এই মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ছাত্রদের প্রতি সহানুভূতিশীল, সরকার সহানুভূতিশীল এবং সেই কারণে প্রধানমন্ত্রী সরকারি সংস্থা বিআরটিসি’র ভাড়া হাফ করে দিয়েছেন। যারা ছাত্র তারা আমাদের সন্তান, তাদেরও সন্তান। আমি আশা করবো, পরিবহনের মালিকরাও তাদের সন্তানদের কথা চিন্তা করে বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’

২০১৮ সালে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের শেষটা ভালো হয়নি। পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেওয়ানোর চেষ্টা হয়েছিল। সুযোগসন্ধানীরা আওয়ামী লীগ অফিসের ভেতর ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, এমন অপপ্রচার চালিয়েছিল তখন। সুতরাং আজকের এ আন্দোলনের দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা দরকার। সম্প্রতি, নটর ডেম কলেজের ছাত্র নাঈম হাসান ময়লার গাড়ির চাপায় নিহত হওয়ার পর ছাত্ররা গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে নামে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কর্মকর্তারা কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শিক্ষকদের নির্দেশে পরে গুলিস্তান ছেড়ে গিয়েছিল শিক্ষার্থীরা। এখন সারা ঢাকায় এ আন্দোলন।

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

 

  • সর্বশেষ