প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তসলিমা নাসরিন: কান ভালো, এর মানে এই নয় যে কানের সব সিলেক্টেড ছবিই ভালো

তসলিমা নাসরিন
সা—রেহানা মরিয়ম নূর ছবিটা তোমার পছন্দ হয়নি বলে লোকেরা তো ধুমসে গালি দিচ্ছে তোমাকে। ইত্তেফাক পত্রিকা পর্যন্ত তোমার বিরুদ্ধে লোকের অশ্লীল গালিগালাজ ছাপাচ্ছে। ত—একটা ছবি আমার ভালো লাগেনি, তাতে লোকে গালি কেন দেয়? যাদের ভালো লেগেছে, তাদের তো আমি গালি দিচ্ছি না। লোকগুলো আসলে ঘোর তসলিমা-বিদ্বেষী। ছুতো খোঁজে অ্যাবিউজ করার। কিন্তু আমি তো দুনিয়ায় একজনই যাকে ২৪/৭ অ্যাবিউজ করা যায়, ছুতোর দরকার হয় না! সা—কেউ কেউ বলেছে তুমি সিনেমার কী জানো? ত—তাঁরা সিনেমার অনেক কিছু জানেন, তো তাঁরা সিনেমা সম্পর্কে মন্তব্য করুন, আমি কি বাধা দিয়েছি? আমি সিনেমার কতোটুকু কী জানি, তাঁরা তো সেটা জানেন না। তারপরও তাঁরা মনে করেন সিনেমা সম্পর্কে আর সবার যা কিছু বলার অধিকার থাকুক আমার নেই। ঠিক যেমন আমার দেশে আর যে কারও থাকার অধিকার থাকুক, আমার নেই। সা—তোমার তো ‘ভালো ছবি’ নামে একটি সিনে-ক্লাব ছিলো! দেশ আর আনন্দবাজারেও সিনেমার রিভিউ করতে। ত—হ্যাঁ , যখন কলকাতায় ছিলাম। কলকাতা ছাড়ার পর ক্লাব করছি না । তবে ভালো ছবি দেখা এবং মাঝে মাঝে রিভিউ করাটা চলছে।

সা—গোর্কি সদনে তো একবার বেশ কিছু ছবি দেখিয়েছিলে? ভীষণ প্রশংসা পেয়েছিলো উদ্যোগটির। কী কী ছবি ছিলো? ত— কেন লোচের সুইট সিক্সটিন, লুকাস মুডিসনের লিলিয়া ফরএভার, চেন কাজের ফেয়ারওয়েল মাই কংকুবাইন, ফেরনান্দো মেইরেলিসের সিটি অব গড। বাকি ছবি ইতালীয়, ফরাসি, ইত্যাদি ছিলো। এখন আর মনে নেই নাম। দুহাজার চার বা পাঁচ সালের কথা। সা—রিভিউ কবে থেকে করো? ত– সেই সত্তর দশকে শুরু, সিনেমার কাগজগুলোতে। তখন ইস্কুলে পড়ি, লোকে ভাবতো আমি বুঝি বড় কেউ। সত্তর দশকে বাংলাদেশের ছবি দেখতাম, আশির দশকে ভারতীয় আর্ট ফিল্ম। আর নব্বই দশক থেকে বিশ্বের ভালো ছবি। এঞ্জয় করি, তবে সব ছবির রিভিউ লিখি না। সা—রেহানা মরিয়ম নূর ছবিটা কেন তোমার ভালো লাগেনি? ত—নানা কারণ। প্রথমত ছবিটায় একটা ফুল লেন্থ ফিচার ফিল্মের কোনো কোয়ালিটি নেই। যদি দশ বা পনেরো মিনিটের কোনও শর্ট ফিল্ম হতো, চলতো। ছবিটার নির্মাণ ভালো নয়, গল্প ভালো নয়, এডিটিং ভালো নয়, সংলাপ ভালো নয়, অভিনয় ভালো নয়। বাঁধন হয়তো ভালো অভিনেত্রী। আমার মনে হয় না, এই ছবিতে তাঁর অভিনয় করার খুব বেশি সুযোগ ছিলো। কাঁচাপাকা লোকটি বরং বেটার করেছে। সা— এই ছবি তো অনেকের পছন্দ হচ্ছে। কেন হচ্ছে? ত—আমার মনে হয় অনেকে পছন্দ হয়েছে বলছে কারণ ছবিটাকে কান উৎসবের জন্য সিলেক্ট করা হয়েছে, অন্যান্য চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার পেয়েছে, সে কারণে। অনেকে আবার মনে করেছে, ছবিটা বাংলাদেশের বাজে ছবিগুলোর মতো দেখতে নয়, সুতরাং ছবিটা ভালো। অনেকে আবার ভাবছে, ছবিটায় আউটডোরের সিন নেই, তার ওপর আলো নেই, মেঘলা মেঘলা, সম্ভবত এটি আর্ট ফিল্ম, সুতরাং এটিকে ভালো না বললে জাত থাকে না, জাতে ওঠার জন্য। অনেকের আবার ভালো লেগেছে ছবিটিতে আজান আছে, মাথায় কাপড় আছে, নামাজ আছে, সে কারণে।

সা—অন্যান্য ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে তো পুরস্কার পেয়েছে ছবিটি। ত–হ্যাঁ, পেয়েছে। এর বড় কারণ মনে হয়, কানে দেখানো হয়েছে ছবি। কানের সিলেকশানকে লোকে চোখ কান বন্ধ করে মানে। আমি তো কানের পাম দ’র পুরস্কার পাওয়া সব ছবিই দেখেছি। কান ভালো, এর মানে এই নয় যে কানের সব সিলেক্টেড ছবিই ভালো। অনেক সময় তারা নতুনদের এনকারেজ করতে ছবি সিলেক্ট করে, বিশেষ করে এশিয়া আফ্রিকা মুসলিম দেশ ইত্যাদি পিছিয়ে থাকা অঞ্চলে যদি কেউ সিনেমার মতো শিল্প নির্মাণ করে। সা—বাংলা ছবি দেখ? ত— সত্যজিৎ, ঋত্মিক, মৃণাল বাবুর সব ছবিই দেখেছি। এখন কোনো বাংলা ছবি খুব ভালো রিভিউ পেলে দেখি। কৌশিক গাংগুলির ছবি দেখা হয়। বাংলাদেশের কোনো ছবি বেশ কয়েক যুগ পর দেখলাম। মাঝে অবশ্য ফারুকির ডুব দেখেছিলাম। সা–ছবি পরিচালনার ইচ্ছে আছে? ত—একেবারেই না। আমি সিনেমা দেখতে ভালোবাসি। সিনেমা বানানোর আমার কোনো দক্ষতা নেই। সা—তোমার প্রিয় পরিচালক কে? ত–বেশ ক’জন পরিচালক আমার প্রিয়। তাঁদের মধ্যে অন্যতম তাইওয়ানের হাও সিয়াও সিয়েন। Taslima Nasrin ’র ফেসবুক ওয়ালে লেখাটি পড়ুন।

 

সর্বাধিক পঠিত