প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শুভদীপ চন্দ: মেয়েদের স্বপ্ন ভাঙে বিয়ের পর!

শুভদীপ চন্দ
পাশেই এক বাড়িতে সম্ভবত বিয়ে হচ্ছে। হিন্দু বিয়ে। ভর দুপুরে ব্যান্ড বাজাচ্ছে। কখনো করুণ সুর কখনো নাচানাচির সুর। মেয়েদের স্বপ্ন ভাঙে বিয়ের পর। এতো বড় জিনিসটা নিঃশব্দে ভাঙে। যতোই প্রেম খাতির করে বিয়ে করুক- স্বপ্ন ভাঙবেই। এজন্যই হয়তো বিয়েতে মাঝে মাঝে করুণ সুর দেয়। রান্না করতে আসা মাসি বলে ‘কার্তিক মাসে বিয়ে হয় কেন?’ কার্তিক মাসে বিয়ে হয় না- জানতাম না। এখন চন্দ্র, গ্রহ, নক্ষত্রের চেয়ে সুযোগ-সুবিধা, ফাঁকা সময় দেখে পঞ্জিকায় বারবেলা কালবেলা হয় মাসির সেটা জানার কথা নয়। এদিকে একটু শীত পড়ে গেছে। মাসি এক কাপড়েই আসে। আমার ধারণা তার দ্বিতীয় কেন প্রথম কোনো শীতবস্ত্রই নেই। রাতে গায়ে দেবে পুরনো লেপ। তুলোটুলো সরে ল্যাথল্যাথা হয়ে গেছে। মাতৃত্ব এক কৃষ্ণগহŸর। কিছুই সেখানে আটকে থাকে না। যতোবার দেওয়া হয়- তিনি নেন কিন্তু পরে আর আসেন না। আমার ধারণা ছেলের ভোগে চলে যায়। এমনিই ছেলেদের প্রতি মায়েদের এক নিরীহ প্রশ্রয় থাকে। যখন কোনো রেফারেন্স দেয় বলে ‘আমার গোপাল বলছে…’। এ গর্বিত ‘আমার’ শুনে কেউ বুঝবে না গোপাল একজন ডাকসাইটে নেশাখোর ও গাঁজাখোর ছেলে। এ হিন্দু পরিবারগুলো খুব বেশিদিন আর এদেশে থাকতে পারবে বলে মনে হয় না। সম্প্রতি এক ভিডিও দেখলাম এক হিন্দু মহিলা কেঁদেকেটে বলছেন, তাদের ভারত চলে যেতে বলা হয়েছে। উত্তরবঙ্গে নির্বাচন নিয়ে সহিংসতার ভিডিও। ভারত যাওয়াটা এদেশের হিন্দুদের জন্য খুব বেশি মর্জিমাফিক নেই- এটা লোকজন বুঝতে চায় না। সাতচল্লিশে ধর্মের ভিত্তিতে দুই দেশ স্বাধীন হলো, সেখানে পরে মাইগ্রেশনের ক্লজ রাখাও উচিত ছিলো। যেন কেউ পরে ইচ্ছা করলে ধর্মের সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে চলে যেতে পারে। লঘু হয়ে তবে কাউকে বাঁচতে হতো না।

তাদের এক জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে গঞ্জনা শুনে। পরের বাসায় কাজ করে, অকালকুষ্মাÐ ছেলেদের সঙ্গে থাকে, উল্টাপাল্টা ভোট দেয়। গঞ্জনা কোথায় নেই। এক যে রাষ্ট্র যেখানে সব নাগরিক সমান- সেখানেও হিন্দু পরিচয়ের জন্য ভারত ভাগার খোঁটা শুনতে হয়। আজকাল অবশ্য এসব নিয়ে বেশি কথা বলি না। মুনি ঋষি হওয়ার চেষ্টা করছি। যিনি মৌণ থাকেন, ঈশ্বরের সঙ্গে মনকে লীন করে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি মুনি। আর যারা অখÐ সত্য দর্শনে সক্ষম তারা ঋষি। ঋষি মুনির চেয়ে উচ্চতর অবস্থা। আগে ভেবেছিলাম মুনি ঋষি বুঝি একই শব্দ। পল ডিরাক নামে এক বিজ্ঞানী ছিলেন। বিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞানী। ১৯৩৩ সালে সবচেয়ে কম বয়সে নোবেল পুরস্কার পান। তত্ত¡ীয় পদার্থবিদ্যায় আইনস্টাইনের পরেই তাঁর স্থান ছিলো। তিনি এতো কম কথা বলতেন- বন্ধুরা তার নামে কথার উরৎধপ ঁহরঃ চালু করেছিলো। এক Dirac unit মানে এক ঘণ্টায় এক কথা বলা। উচিত কথা কাজের কথা অর্থবহ কথা বলার বেলায় এদেশের লোকজন এক ডিরাক হাফ ডিরাক কখনো কখনো কোয়ার্টার ডিরাকে কথা বলে। বেশিরভাগ সময় তাও বলে না। এ পল ডিরাক সাহেবও অবশ্য বদলে গেছিলেন প্রেমে পড়ে। প্রথম বিচ্ছেদের পর চিঠি লিখেছিলেন ‘আমি কখনোই কাউকে মিস করি না। প্রথম কাউকে মিস করছি।’ বিয়ের পর বলেছিলেন তিনি এতোদিনে ‘মানুষ’ হওয়ার মজা পাচ্ছেন। তার আর কিছুরই প্রয়োজন নেই। ব্রিলিয়ান্ট মাইন্ড সঙ্গে সরলতা- খুব দুর্লভ ছিলো না বুঝি সেসময়। আসলে কেউ যখন ভালোবাসে আর সে ভালোবাসার মানুষটিকে নিয়ে কথা বলে সম্পূর্ণ ভিন্ন ভাষায় কথা বলে। শুধু কথা দিয়েই এক অদ্ভুত শান্তি স্বস্তি ছায়া নিয়ে আসে তার জন্য। যেখানেই যাক স্থলচারী সে ছায়ার খোঁজে ঠিক ফিরে আসে। পল ডিরাক, ম্যান্সি, গোপাল, গোপালের মা কেউ ব্যতিক্রম নয়। Shuvodip Chanda-র ফেসবুক ওয়ালে লেখাটি পড়ুন।

সর্বাধিক পঠিত