প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মঈন চৌধুরী: আমার পড়া, জানা আর বিভ্রান্তি

মঈন চৌধুরী
আমার ব্যক্তিগত লাইব্রেরীতে প্রায় নয় হাজার বই আছে। বইগুলোর মাঝে আছে সাহিত্য, দর্শন, নন্দনতত্ত¡, বিজ্ঞান আর অন্যান্য বিষয়ভিত্তিক প্রকাশনা। আমি গত পঞ্চাশ বছরে ৮৫ শতাংশ বই পড়েছি, আর যে ১৫ শতাংশ বই পড়া হয়নি তার মাঝে আছে রেফারেন্স বই আর ভালো না লাগা বইগুলো। বিভিন্ন রকম বিষয়ের বই আর তত্ত¡ পড়ার ফলে আমার মনে একধরনের বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে, যাকে সহজ ভাষায় ‘আওলা-ঝাওলা’ ভাব বলা যায়। বিষয়টি আমি একটু বুঝিয়ে বলি। আমি নিজে মুক্তমনা আর যুক্তিবাদী, কিন্তু কোয়ান্টাম ফিজিক্স বা কসমোলজি পড়ার কোনো একপর্যায়ে গিয়ে আমি অধিবিদ্যাজাত চিন্তার পাল্লায় পড়ি। দেকার্ত বা শোপেনহাওয়ারের অধিবিদ্যাজাত দর্শন পড়ার পর যুক্তিবাদী দেরিদা, হাইডেগার, ফুকো, লাকা প্রমুখের মাঝেও আমি অধিবিদ্যা খুঁজে পাই। যুক্তিবাদী চিন্তার সঙ্গে অধিবিদ্যার সংঘাত আমায় কাছে ভালো লাগছে না।

আরেকটা বিষয় নিয়ে আমি ‘আওলা-ঝাওলা’ হয়ে আছি। আমাদের বা বাংলাদেশ-ভারতের দর্শন ও সাহিত্যচিন্তায় আমি পশ্চিমের দর্শন আর তত্ত¡কেই খুঁজে পাই বোশ। আমরা কথায় কথায় সক্রেটিস, রাসেল, মুর, দেরিদা, ফুকো, লাকা প্রমুখের নাম আওড়াই, কিন্তু পানিনি, পতঞ্জলি, দিংনাগ, নাগেশ ভট্ট, মন্ডন মিশ্র প্রমুখের তত্ত¡ ধারণা এবং আমাদের লোকজ দর্শনকে আমরা জানিই না। এমন হওয়া কি উচিত? আমাদের কবিতার কাব্যতত্ত¡ কি পশ্চিমের তত্ত¡ মেনেই চলবে? উপন্যাসের বেলাও কি হবে তাই? এসব চিন্তা নিয়ে আমি ‘আওলা-ঝাওলা’ হয়ে যাই। অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্করী, এটা আমি জানি। আমার বেলায়ও হয়তো তাই হয়েছে। আমি বন্ধুদের বলবো তাদের চিন্তা শেয়ার করে আমাকে সাহায্য করতে। Mayeen Chowdhury’র ফেসবুক ওয়ালে লেখাটি পডুন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত