প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] রাণীশংকৈলে গ্রেপ্তারের আতঙ্কে ৩ গ্রাম পুরুষশূন্য !

আনোয়ার হোসেন: [২] ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় গত বৃহস্পতিবার (১১নভেম্বর) অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসারসহ নির্বাচনী কর্মকর্তা ও বিজয়ী প্রার্থীর ওপর হামলার সহিংসতা ঘটনায় মামলা হয়েছে।

[৩] ১২ নভেম্বর সকালে উপজেলা সমাজ সেবার জুনিয়র হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ওই কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং অফিসার হেলালউদ্দিন বাদী হয়ে ১৪ জনের নামসহ অজ্ঞাত ৩৫০ জনকে আসামি করে রাণীশংকৈল থানায় মামলা করেন।

[৪] মামলার পর গত রোববার (১৪ নভেম্বর) রাত আড়াইটায় এসআই বদিউজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘনশ্যামপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে আবুল হোসেন (৪০), শাহ আলম (৬০), আব্দুল হালিম (৩৩) ও মো. হানিফকে (৫০) তাদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।

[৫] থানা ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) ভোটের দিন নেকমরদ ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড জি-কোকিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে ভোট শেষে গণনার পর ইউপি সদস্যের ফলাফল নিয়ে ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রার্থী মতিউর রহমানের লোকজন বিজয়ী ইউপি সদস্য রাজেন্দ্র নাথের ফলাফল মেনে নিতে পারেননি।

[৬] এ সময় তাঁরা পুনরায় ফলাফল ঘোষণার জন্য আবেদন জানালেও প্রিসাইডিং কর্মকর্তা তাতে রাজি হননি। পরে পরাজিত প্রার্থীর কর্মী সমর্থকেরা উত্তেজিত হন। তাঁরা অভিযোগ তুলে বিজয়ী প্রার্থী কোনোভাবেই ভোটে জয়ী হয়নি বলে দাবি করে প্রিসাইডিংসহ প্রশাসনের লোকদের অবরুদ্ধ করে রাখেন পরাজিত প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকেরা। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে।

[৭] দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং অফিসার হেলালউদ্দিন বলেন জি-কোকিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে ইউপি সদস্যেদের ফলাফল ঘোষণার সময় সহিংসতার ঘটনা ঘটে। কিছু লোক ভোটকেন্দ্রে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে। তারা আশপাশের রাস্তা কেটে ফেলে, যাতে আমিসহ অন্যরা ভোটকেন্দ্র ত্যাগ করতে না পারেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং কেন্দ্র থেকে সকলে নিরাপদে বের হয়ে আসেন।

[৮] এ ঘটনায় মামলার কারণে গ্রেপ্তার আতঙ্কে নেকমরদ ইউনিয়নের ময়মনসিংহ পাড়া টাঙ্গাইল পাড়া ও জোতপাড়া গ্রামের থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। গ্রেপ্তারের ভয়ে কোনো পুরুষ বাড়িতে থাকছেন না। এতে স্বামী ছাড়া সন্তানদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন গ্রামের নারীরা।

[৯] এ বিষয়ে আম্বিয়া বেগম নামে একজন বলেন, আমার স্বামী মাছ ধরে সংসার চালায়। ভোটের দিন মারামারির সময় আমরা যাইনি। পরে শুনেছি সবার নামে মামলা হয়েছে। এখন আমার স্বামী গ্রেপ্তারের ভয়ে বাসায় থাকে না। কীভাবে আমি সন্তানদের নিয়ে থাকবো ?

[১০] রোকেয়া খাতুন নামে আরেকজন বলেন, কয়েকজনকে ধরে নিয়ে গেছে। এই ভয়ে বাসায় কেউ থাকে না। পাকা ফসল কাটতে পারছি না, নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা দিনমজুর মানুষ, কী করব এখন? ভোট দেওয়াটাই কি আমাদের অপরাধ?

[১১] এ বিষয়ে রাণীশংকৈল থানা পরিদর্শক (ওসি) এসএম জাহিদ ইকবাল জানান মামলার পর ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (১৫ নভেম্বর) তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন। বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত