প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বাবাকে অন্য নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলায় শিশু ফাহিমাকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৫

মাসুদ আলম : [২] বুধবার সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লার দেবিদ্ধার ও রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে ফাহিমা আক্তার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাদের গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ঘাতক বাবা আমির হোসেন, রবিউল আউয়াল, রেজাউল ইসলাম ইমন, লাইলি আক্তার ও সোহেল রানা ।

[৩] তিনি আরও বলেন, গত ১৪ নভেম্বর দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের কাচিসাইর নজরুল মাস্টারের বাড়ির সামনে কালভার্টের নিচে সরকারি খালের ডোবা থেকে ফাহিমার বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করা হয়। আমির হোসেনের সঙ্গে লাইলি আক্তারের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। গত ৫ নভেম্বর লাইলি আক্তার ও আমির হোসেনকে ফাহিমা আক্তার আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে। এতে লাইলি আক্তার ও আমির হোসেন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে এবং লাইলি আক্তার এই বিষয়টি যেন কেউ জানতে না পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আমির হোসেনকে চাপ দিতে থাকে। লাইলি আক্তারের প্ররোচণায় গত ৬ নভেম্বর আমির হোসেন গ্রেপ্তারকৃত অন্যান্য সহযোগীদের নিয়ে ফাহিমা আক্তারকে হত্যার জন্য পরিকল্পনা করে এবং আমির হোসেন লাইলি আক্তারকে পরিকল্পনা বাস্তাবায়নের বিষয়টি জানায়।

[৪] মঈন বলেন, আমির হোসেন লাইলি আক্তারকে নিয়ে আরও পরিকল্পনা করে মেয়েকে হত্যা করার পর সে তার স্ত্রীকে ডিভোর্স অথবা প্রয়োজনে হত্যা করে হলেও লাইলি আক্তারকে বিয়ে করবে। ৬ নভেম্বর রাতে ইমনের ফার্নিচার দোকানে আমির হোসেন টাকার বিনিময়ে রবিউল আউয়াল, ইমন ও সোহেল রানা’কে সঙ্গে নিয়ে ভিকটিম ফাহিমা আক্তারকে হত্যার জন্য পরিকল্পনা করে।

[৫] তিনি আরও বলেন, ফাহিমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে গত ৭ নভেম্বর কৌশলে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে ফাহিমাকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় ও চাঁপানগর রাস্তার মোড়ে সোহেল রানার সিএনজিতে করে আমির হোসেন ও তার অন্যান্য সহযোগীরা ভিকটিমকে নিয়ে রওনা করে। তারা সিএনজিতে বিভিন্ন স্থানে ঘুরাফেরা করে রাতে দেবিদ্বার পুরান বাজারের দক্ষিণে নদীর তীরবর্তী নির্জন স্থানে ভিকটিম ফাহিমাকে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর লাইলি আক্তার এর উপস্থিতিতে আমির হোসেন তার মেয়ে ফাহিমার মুখে চেপে ধরে রাখে ও সর্বপ্রথম নিজে নিজ মেয়েকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে, রবিউল ভিকটিমের পায়ে ছুরি দিয়ে আঘাত করে, রেজাউল ইসলাম ইমন ছুরি দিয়ে ভিকটিমের পায়ে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে, সোহেল ছুরি দিয়ে ভিকটিমের পিছনে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে ক্ষত-বিক্ষত করে দেয়। আমির হোসেন তার মেয়েকে গলায় চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

[৬] ৯ নভেম্বর নজরুল মাস্টারের বাড়ির সামনে কালভার্টের নিচে সরকারি খালে ডোবার পানিতে ফেলে আসে।

সর্বাধিক পঠিত