প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] উপকূলে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের স্মৃতিতে ভেসে ওঠে দুঃসহ সেই দিনের কথা

সাগর আকন, বরগুনা: [২] সেই প্রলয়ঙ্করী ১৫ নভেম্বর, সিডর দিবস। ২০০৭ সালের এই দিনে ঘণ্টায় ২৬০ কিলোমিটার বেগে বাতাসের সঙ্গে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১০ থেকে ১২ ফুট উচ্চতার পানি আঘাত হেনেছিল উপকূলীয় এলাকায়। এতে পানির চাপে পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদীপাড়ের বেড়িবাঁধ ভেঙে ভাসিয়ে নিয়ে যায় ৬৮ হাজার ৩৭৯টি ঘরবাড়ি। পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে যায় ৩৭ হাজার ৬৪ একর জমির ফসল।

[৩] সেদিন সিডর মূলত বেশি আঘাত হানে ,বরগুনা, পিরোজপুর, বাগেরহাট জেলায়। তবে জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হয় বরগুনা জেলায়। এখানে এক হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এই জেলায়। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন শিশু, নারী ও বৃদ্ধ।

[৪] ১৪ বছর পরও দুঃসহ সেই দিনের কথা মনে করে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন অনেকে। হারানো স্বজনের স্মৃতি হাতড়ে বেড়ান কেউ কেউ। প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডরের ভয়াল স্মৃতি আজও তাড়িয়ে বেড়ায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলবাসীকে। সিডর আঘাতের ১৪ বছর পরও ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোয় নির্মাণ হয়নি টেকসই বেড়িবাঁধ। এর মধ্যে আবার বুলবুল, আম্ফান, আইলা, ফনি আঘাত হানে। আগের ক্ষত এখনো না শুকালেও নতুন করে আবার ক্ষত জায়গা আঘাত করে এই ঘূর্ণিঝড়গুলো। ঘূর্ণিঝড় সিডরের সময় আবহাওয়া অফিস ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দিয়েছিল। বুলবুলে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেয় আবহাওয়া অফিস। তবে বুলবুলে বাতাসের গতিবেগ ছিল সিডরের অর্ধেক। যে কারণে বেশি ক্ষতি না হলেও যা ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে ওঠা উপকূলের সাধারণ মানুষের জন্য খুবই কঠিন।

[৫] সিডরে বরগুনার মধ‍্যে বেশি ক্ষতি হয় পাথরঘাটায়। পাথরঘাটার হাড়িটানা এলাকার কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, সিডরের সময় পরিস্থিতি এমন হয়েছিল মনে হচ্ছিল আমরা মারা যাব। কিন্তু আল্লাহ আমাদের বাঁচিয়েছেন। সে বছর রাস্তাঘাটসহ সব কিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তারপর আবার বুলবুল, আম্ফান, ফনিতে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। বেশি ক্ষতি হয়েছে ফসলের।

[৬] জানা গেছে, সিডর-আইলার মতো দুর্যোগের পরও ,বরগুনায় দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য পর্যাপ্ত ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র ও বেড়িবাঁধ গড়ে উঠেনি। ফলে আতঙ্ক কাটেনি উপকূলবাসীর। দুর্যোগকালীন ও পরবর্তী করণীয় বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি হলেও অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে হতাশায় তারা।

[৭] সিডর, মহাসেন, আইলা, বুলবুল ও রোয়ানুর আঘাতের কারণে বরগুনায় ৯০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ৫০০ কিলোমিটার সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ১৫০ কিলোমিটার। উপকূলে শত শত মানুষ, গবাদিপশু ও বন্যপ্রাণীর জীবন প্রদীপ নিভে যায়। নিখোঁজ হয় বহু মানুষ। দুর্যোগের আগের দিনও যে জনপদ ছিল মানুষের কোলাহলে মুখরিত, প্রাণচাঞ্চল্য ছিল শিশু-কিশোরদের। মাঠজুড়ে ছিল কাঁচা-পাকা সোনালি ধানের সমারোহ, পর দিনই সেই জনপদ পরিণত হয় মৃতের ভাগাড়ে। ১৪ বছর পরও সেই স্মৃতি নিয়ে এখনো সেখানকার মানুষ বেঁচে আছেন। তাদের অধিকাংশই হারিয়েছেন স্বজন। সেই বিভীষিকাময় দিনটি মনে পড়লেই এখনো আঁতকে ওঠেন তারা। উপকূলের মানুষের স্মৃতিতে এখনো ভেসে ওঠে শত শত মানুষের চিৎকার আর স্বজনদের আহাজারি।

[৮] এ বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, সিডরের ক্ষত এ অঞ্চলের মানুষ এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন। তবে এখন আমাদের অনেক সক্ষমতা বেড়েছে। দুর্যোগ প্রশমনে ও ব্যবস্থাপনায় এখন বিশ্বে একটি রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে বাংলাদেশ। দুর্যোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠন রয়েছে।

[৯] তিনি আরও বলেন, এ অঞ্চলের বেশকিছু বেড়িবাঁধ আইলা, আম্ফান, বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেগুলোও মেরামতের জন্য তালিকা করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত