প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যেভাবে বুঝবেন ডায়াবেটিস আপনার শরীরে বাসা বাঁধছে

ডেস্ক নিউজ: বাংলাদেশসহ বিশ্বে প্রতি সাত সেকেন্ডে একজন মানুষ ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশ্বব্যাপী প্রায় ৪২ কোটিরও বেশি মানুষ ডায়াবেটিসে ভুগছেন। রক্তে শর্করার মাত্রা হ্রাস করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। প্রথম থেকেই যদি জীবনধারায় পরিবর্তন আনা যায় তাহলে দ্রুত বশে আনা যায় ডায়াবেটিস। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের খাওয়াদাওয়ায় পরিবর্তন আনা জরুরি।

যেসব খাবারে গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের পরিমাণ কম থাকে, সেসব খাবার ডায়াবেটিস রোগীর জন্য বিশেষ উপকারী। তাই দৈনিক পাতে রাখুন কয়েকটি পুষ্টিকর সবজি। সময় টিভি 

বাংলাদেশের ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ড. এ কে আজাদ খান বলছেন, ‘ডায়াবেটিস প্রধানত টাইপ-ওয়ান ও টাইপ-২, এই দুইভাবে আমরা ভাগ করি। আমাদের দেশে ৯৫ শতাংশ রোগী টাইপ-২ ধরনের। টাইপ-ওয়ান হচ্ছে যাদের শরীরে একেবারেই ইনসুলিন তৈরি হয় না। তাদের ইনসুলিন বা পুরোপুরি ওষুধের ওপর নির্ভর করতে হয়। সেজন্য সবসময় চিকিৎসকের পরামর্শে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। তবে টাইপ-২ ধরনের ক্ষেত্রে আগাম সতর্কতা অবলম্বন করে রাখলে ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস ঠেকিয়ে রাখা বা বিলম্বিত করা সম্ভব।

কিভাবে বুঝবেন আপনি এ রোগে আক্রান্ত লক্ষণগুলো হলো :

*ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া ও পিপাসা লাগা।

* দুর্বল লাগা’ ও ঘোর ঘোর ভাব আসা।

*ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া।

*সময়মতো খাওয়া-দাওয়া না হলে রক্তের শর্করা কমে হাইপো হওয়া।

*মিষ্টি জাতীয় জিনিসের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যাওয়া।

*কোন কারণ ছাড়াই অনেক ওজন কমে যাওয়া।

*শরীরে ক্ষত বা কাটাছেঁড়া হলেও দীর্ঘদিনেও সেটা না সারা।

* চামড়ায় শুষ্ক, খসখসে ও চুলকানি ভাব।

*বিরক্তি ও মেজাজ খিটখিটে হয়ে ওঠা।

*চোখে কম দেখতে শুরু করা।

যে চারটি সবজি প্রতিদিন খেলে এ রোগটি নিয়ন্ত্রণে থাকে।

গাজর: গাজরে থাকে বিটা ক্যারোটিন, ফাইবার, ভিটামিন কে ১, ভিটামিন এ ও প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। এ ছাড়াও গাজরে গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের পরিমাণও অনেক কম, মাত্র ১৬।
তাই গাজর খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়বে না বরং কমবে। কারণ এই সবজি টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়। তাই প্রতিদিন সালাদে পাতে গাজর রাখুন। আবার বিভিন্ন পদও তৈরি করে খেতে পারেন এই সবজি দিয়ে।

ব্রকোলি: ডায়াবেটিস রোগীরা প্রতিদিন পাতে রাখুন ব্রকোলি। এতে থাকে আয়রন, ভিটামিন সি, ফাইবার, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামসহ একাধিক পুষ্টি উপাদান। ব্রকোলিতে থাকা যৌগ সালফোরাফেন ডায়াবেটিসের আক্রান্ত রোগীর রক্তনালিকাকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার হাত থেকে বাঁচায়। এতে থাকা গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের পরিমাণ মাত্র ১৫। তাই দৈনিক পাতে রাখ পারেন এই সবজি।

শসা: ওজন কমাতে শসার ভূমিকা অপরিসীম। এতে পানির পরিমাণ অনেক থাকে, যা শরীরকে আর্দ্র রাখতে সহায়তা করে।

সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, শসায় থাকা পুষ্টিকর উপাদান মানবদেহে ইনসুলিন তৈরিতে সহায়তা করে। এতে থাকে মাত্র ১৪ গ্লাইসেমিক ইনডেক্স। ফলে শসা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
ঢেঁড়স: ঢেঁড়স ডায়াবেটিস রোগীর জন্য অনেক উপকারী। এতে আছে পটাশিয়াম, ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, ফলিক অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম, ফাইবার ইত্যাদি।

এতে গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের পরিমাণ মাত্র ১৭-২০। তাই প্রতিদিনই নিশ্চিন্তে পাতে রাখতে পারেন ঢেঁড়স। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এটি।

১৯৫৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এ সমিতি। বর্তমানে এই সমিতির হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোয় নিবন্ধিত রয়েছেন ৪৫ লাখের বেশি ডায়াবেটিস কর্মী। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, ২০৪৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দাঁড়াবে দেড় কোটিতে।

বাংলাদেশের ডায়াবেটিক সমিতির সূত্রে মতে, যাদের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের অবশ্যই বছরে একবার ডায়াবেটিস পরীক্ষা করাতে হবে। এজন্য সবসময় হাসপাতালে যেতে হবে এমন নয়। এখন অনেক ফার্মেসিতে স্বল্পমূল্যে দ্রুত ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা যায়। সেখান ডায়াবেটিস শনাক্ত হলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

যাদের শিশুর ঘনিষ্ঠ স্বজনদের ডায়াবেটিসের ইতিহাস রয়েছে, তাদেরকেও বছরে অন্তত একবার করে পরীক্ষা করাতে হবে। সেই সঙ্গে বছরে অন্তত একবার লিপিড প্রোফাইল ও রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রাও পরীক্ষা করে দেখতে হবে।

সর্বাধিক পঠিত