প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মঞ্জুরে খোদা টরিক: মাফিয়া পরিবহন, বিকল্প ব্যবস্থা ও সাইকেল সংস্কৃতি

মঞ্জুরে খোদা টরিক
[১] ১৯৯৬ সালে সরকারি সাইকেল কারখানাটি কিনে মেঘনা গ্রপ- ট্রান্স ওয়ার্ল্ড বাইসাইকেল, ইউনিগেরি ও মাহিন সাইকেল ইন্ডাস্ট্রিজ নামে তিনটি ইউনিটে সাইকেল উৎপাদন করছে। ২০১৪ সাল থেকে প্রাণ গ্রæপও দুরন্ত নামে সাইকেল উৎপাদন করছে। ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাস্তায়- ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ সাইকেল চলছে। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গৌরবের। ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাইসাইকেল রপ্তানিতে বাংলাদেশ তৃতীয় স্থানে এবং সারাবিশ্বের সাইকেল রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম। যে দেশ পরিবেশবান্ধব সাইকেল উৎপাদন ও রপ্তানিতে এমন গৌরব অর্জন করলো- সে দেশেই সাইকেলের কোনো কদর নেই, জনপ্রিয় নয়। নাগরিকদের ব্যাপক সাইকেল ব্যবহারের অভ্যাস করতে হবে। এতে অর্থ, স্বাস্থ্য, পরিবেশ রক্ষা হবে, নির্ভরশীলতা দূর হবে। ঢাকার রাস্তা গাড়ি দখল করে আছে, ফুটপাত হকার দখল করে আছে। মানুষের যেখানে হাঁটার জায়গা নেই সেখানে সাইকেল চলবে কীভাবে, কোথা দিয়ে? ঢাকাসহ দেশের শহরগুলোতে সাইকেল চালানোর বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে। সাইকেল স্ট্যান্ড তৈরি করতে হবে। সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে মেট্রোরেল, ফ্লাইওভার, সেতু করছে কিন্তু এদিকে কোনো মনোযোগ নেই। এটা ভাবতে হবে। মানুষের মূল্যবোধ ও চিন্তাপদ্ধতিতে পরিববর্তন আনতে হবে। সাইকেল শুধু শৈশবের সখের বিষয় নয় তা কর্মজীবনেও অনিবার্য ব্যবহারিক করতে হবে। এটা শুধু সাইকেলের ক্ষেত্রে নয় গণপরিবহন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও। এতে সামাজিক স্ট্যাটাস বাড়া-কমার কিছু নেই। নিজের সন্তানদের সাইকেল ব্যবহারে উৎসাহিত করুন।

[২] আমাদের পরিবহন খাত প্রায় সম্পূর্ণ বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীল। সরকারি পরিবহন ব্যবস্থা বিআরটিসি থাকলেও সেটা বিকল্প নয়। যে কারণে অন্যায় অজুহাতে পরিবহন মালিকরা ধর্মঘট দিলে ব্যাপক জনদুর্ভোগ হয় এবং সরকারকেও তাদের দাবি মানতে হয় বা মানতে বাধ্য করা হয়। পরিবহনের মালিক ও ইউনিয়নের লোকেরা সরকারি লোকজন ও একে অন্যের স্বার্থের রক্ষক। বিশ্বের সকল উন্নত দেশের শহরগুলোর প্রধানত সরকার বা নগর পরিবহনের ওপর নির্ভরশীল। জাপান, কানাডাসহ সব দেশের প্রধানগুলোই নগর পরিবহনই প্রধান। আবার ডে ও মাসিক পাসের মাধ্যমে যাত্রী পরিবহন করে। পৃথিবীতে এমন শহর আছে যেখানে নগর পরিবহনে যাতায়াত ফ্রি। কিন্তু বাংলাদেশে বিআরটিসি নামের একটা পরিবহন সংস্থা থাকলেও রাজধানী ও দেশের কিছু রুটে চলাচল করলেও নাগরিকরা তাদের ওপর মোটেই নির্ভরশীল নয়। সেটা তো হওয়ার কথা নয়। সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়ম, অব্যবস্থাপনায় বিআরটিসিকে অকার্যকর করা হয়েছে।

সরকারের একটা নিজস্ব ও কার্যকর পরিবহন ব্যবস্থা থাকলে বাংলাদেশের পরিবহন মাফিয়াদের কাছে জিম্মি হয়ে থাকতো না। তারা ধর্মঘট দিয়ে জনগণ দুর্ভোগ ও দেশকে অচল করতে দিতে পারতো না। কিন্তু সেটা নেই। নগর কর্তৃপক্ষের কাজ শুধু রাস্তাঘাট পরিষ্কার ও মশা মারামারি নয়। নাগরিকদের পরিবহন সেবা ও ব্যবস্থা করাও আপনাদের কাজ। মাফিয়াদের হাত থেকে নাগরিকদের রক্ষা করতে দেশে সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা চালু করুন। লেখক ও গবেষক

 

সর্বাধিক পঠিত