প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে রুপান্তরের কাজ চলছে: ভূমিমন্ত্রী

মাছুম বিল্লাহ, যুক্তরাজ্যে (ম্যানচেস্টার) থেকে: [২] বাংলাদেশে বিনিয়োগে সুন্দর পরিবেশ বিরাজ করছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য রয়েছে নানা ধরনের ছাড়। যে কোন সময় মুনাফা তুলে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বৈশ্বিক করোনার মহামারির মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বে দেশের অর্থনীতি গতিশীল রয়েছে। আমদানি-রপ্তানি সচল রয়েছে। ফলে বাংলাদেশে বিনিয়োগে মুনাফার সম্ভবনা বেশি।

[৩] গতকাল যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার সেন্টার কনভেনশন কমপ্লেক্সের এক্সচেঞ্জ হলে ‘ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পোটেনশিয়াল ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সম্মেলন বক্তারা এসব কথা বলেন।

[৪] বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, ম্যানচেস্টার সিটির মেয়র এন্ডো বার্নহাম, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (বিডা) মো. সিরাজুল ইসলাম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মোহাম্মদ রহমাতুল মুনিম, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসইর চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান প্রমুখ। সম্মেলনে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ।

[৫] প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী বলেন,  করোনার আগে দেশের অর্থনীতি এগিয়ে চলছিল। কিন্তু করোনায় অর্থনীতি আঘাত এনেছে। তবে প্রধামন্ত্রীর সময় উপযোগী পদক্ষেপের কারণে অর্থনীতি স্বচল রয়েছে। দেশের আমদানি-রপ্তানি, রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।

[৬] দেশে বিশ্বমানের অবকাঠামো তৈরি হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য নানা ধরনের কর অবকাশ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ১০০টির বিশেষ অর্থনৈতিক জোন তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশের বিনিয়োগের এটি সর্বোৎকৃষ্ট সময়। স্বাধীনতার সময় থেকে বৃটেনের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক রয়েছে। স্বাধনীতার সময় আমাদের সহায়তা করেছে। বৃটেনের বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশের বিনিয়োগে নানা সুযোগ সুবিধা রয়েছে।

[৭] সালমান এফ রহমান বলেন, এক দশকে বাংলাদেশ আমুল পরিবর্তিন হয়েছে। দেশের অর্থনীতি ও মাথাপিছু আয় এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধিসহ প্রত্যকটি সেক্টরে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশ সম্পর্কে ধারণা ছিল না সবার কাছে বাংলাদেশের নামটাও পরিচিত ছিল না। সবাই বাংলাদেশকে দরিদ্র রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত হতো। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে নিয়ে ব্রান্ডিং ছিল না। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশকে উপস্থাপিত হয়েছে।

[৮] স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক গ্রুপের চেয়ারম্যান বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রশংসা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রী লেরি সামার্স বাংলাদেশের অভুতপূর্ব প্রশংসা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশকে পরিবর্তন করেছে। এই ক্ষেত্রে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নতুন বাংলাদেশে পরিণত হয়েছে। ৫০০ ইউএস ডলার থেকে মাথা পিছু আয় ২৫০০ ডলার ছাড়িয়েছে।

[৯] ম্যানচেস্টার সিটির মেয়র বলনে, বাংলাদেশ আমাদের ভালো বন্ধু। সিলেট বিনিয়োগের কথা চিন্তা করছি। আমরা বাংলাদেশের বিনিয়োগ শুরু করবো। বাংলাদেশের অনেক ব্যবসায়ী এখানে ব্যবসা করেন। তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে।

[১০] এনবিআর চেয়ারম্যান বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নানান সুবিধা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ১৮ খাতে কর অবকাশ রয়েছে। শিল্প ও প্রতিষ্ঠান স্থাপনে কর সুবিধা রয়েছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য এখন উপযুক্ত সময়। যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুরোধ করেন।

[১১] বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন,গত এক দশকে দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এমনকি করোনার সময়ও আমাদের গ্রোথ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হয়েছে। দেশের পদ্মা সেতু, মেট্রারেলসহ বড় বড় সব প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে মেধাবীরা নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে স্টার্ট আপস কোম্পানি পরিচালনা করছে। ফলে পুঁজিবাজার দেশের অর্থনীতির বড় অবদান রাখবে। দেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভবনা তৈরি হয়েছে। এই মুহুর্তে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে সবচেয়ে বেশি রিটার্ন পাবেন। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করুন।

[১২] বন্ড এখন সারাবিশ্বে জনপ্রিয় হচ্ছে উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে ট্রেজারি, সুকুক এবং গ্রীন বন্ডসহ নতুন নতুন বন্ড বেশ কিছু বন্ড আনা হচ্ছে। এগুলোতে বিনিয়োগ করলে অনেক বেশি রিটার্ন পাবেন।

[১৩] এছাড়া বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ অনুকুলে ও ব্যবসাবান্ধব সরকার রয়েছে বলে জানান তিনি। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যবাসীকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি। এতে উভয় পক্ষ লাভবান হবেন বলে উল্লেখ্য করেন।

[১৪] বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের উত্তম জায়গা। বিশেষ করে জ্বালানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ, অটোমোবাইল, লাইন ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যাগ্রো প্রসেসিং, ব্লু-ইকোনোমি, ট্যুরিজম, হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ, তথ্য-প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় সেক্টরে সুবিধা নিয়ে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য অপেক্ষা করছে বাংলাদেশ। ব্রিটিশ উদ্যোক্তারা বিনিয়োগের জন্য এসব সেক্টর বা এর বাইরে যে কোনো সেক্টর বেছে নিতে পারেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত